sliderরাজনীতিশিরোনাম

রুখে দাঁড়াতে না পারলে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে : মির্জা ফখরুল

পতাকা ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও আমাদের অধিকার নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে। ২০১৮ সালে কোটা ব্যবস্থা তো সরকারই বাতিল করেছিল। এখন আবারো আদালতকে ব্যবহার করে একটা ইস্যু বানিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘একটা কথা বলতে চাই, আমাদের সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। এই সময়ে রুখে দাঁড়াতে না পারলে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার এখন আমলা ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তারা আমলানির্ভর ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। গতকাল তাদের সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদী চরিত্র দেখেছি।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ পৈশাচিক নির্যাতন করত। বর্তমানে সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সেটিই করছে। তারা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে। অথচ শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।’

গতকাল (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ যা করেছে তা পাকিস্তানিদের চেয়ে কোনো অংশে কম কিনা- প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা হাসপাতালে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ পৈশাচিক নির্যাতন করত।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বরাবরই বলছি, আওয়ামী লীগ আর সেই আওয়ামী লীগ নেই। আওয়ামী লীগ এখন একটা দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আমলাদের ওপরে এবং তাদের তথাকথিত বাহিনীর উপরে যারা আজকে রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে আমার ধারণা বই পড়েৃ বিভিন্নভাবে কিন্তু কোনো ধারণা ছিলো না। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপরে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা, আমার মনে হয়েছে যে, আমি ফ্যাসিবাদ দেখেছি। আমি আমার চোখের সামনে দেখেছি যে, যখনই কোনো কিছু দমন করতে হলে বিরোধী দলকে, বিরোধী মতকে, এমনকি ছাত্রদের দাবিগুলোকে তখন এভাবে তাদের দলের লোকজনকে দিয়ে, তাদের বিভিন্ন সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে তাদেরকে লেলিয়ে দেয়া এবং পুরোপুরিভাবে স্তব্ধ করে দেয়া , এটা হচ্ছে সত্যিকার অর্থেই ফ্যাসিবাদ।

তিনি আরও বলেন, আজকে সেই অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। আজকে ৫৩ বছর হয়ে গেছে স্বাধীনতার, এই স্বাধীনতার এতোদিন পরে আমাদেরকে যখন আমাদের অধিকার নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে, সংগ্রাম করতে হচ্ছে। যে কোটার কথা ছেলেরা বলছে, এই কোটা তো উনি প্রধানমন্ত্রীই বাতিল করে দিয়েছিলেন। আবার সেটাকেই আদালত দিয়ে সামনে নিয়ে এসে ইস্যু বানিয়ে সেটা ইস্যু তৈরি করা হয়েছে। দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের শাসনকে স্থায়ী করার মধ্য দিয়ে, এই কথা আমরা বহুবার বলেছি। সেজন্য আমাদেরকে বিভিন্নভাবে কথা বলা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, এটা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা। আমরা আগে কখনো দেখিনি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা আহতদের আক্রমণ করবে, এটা আমরা কখনো চিন্তাও করতে পারি না, এমনকি পাকিস্তান আমলেও। তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, পাকিস্তান আমলে হানাদার বাহিনীর কথা নাকি ছেলেরা ভুলে গেছে। আপনি তো ভুলে যেতে সাহায্য করছেন না। বরং আপনারা নতুন করে মনে করে দিচ্ছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যে আক্রমণ ছিলো সেটা থেকে আপনারা কোন অংশ কম করেছেন। আমরা যখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ি তখন ছিলো এনএসএফ আইয়ুব খানের দলের ছাত্র সংগঠন। তারা এভাবে আমাদের আক্রমণ করতো, আমাদের সভা ভঙ্গ করতো, অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের সমস্ত আন্দোলনকে দমন করতে শক্তি প্রয়োগ করতো। আজকে আপনারা সেই পাকিস্তানিদের মতো একইভাবে সাধারণ ছাত্রদের ন্যায় সঙ্গত দাবি যে যৌক্তিক দাবি, সেই দাবির আন্দোলনকে নসাৎ করে দেয়ার জন্য আজকে তাদের ওপরে অস্ত্র-সস্ত্র হাতে নিয়ে আপনাদের সেই বাহিনীকে আপনারা লেলিয়ে দিয়েছেন। এভাবে ভয়াবহ নির্যাতন করে তাদেরকে দমানোর চেষ্টা করছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেল, একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন মূল যে দাবি জনগণের যে একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চাই, গণতন্ত্রকে ফেরত চাই, ভোটের অধিকার ফেরত চাই- এই দাবিগুলো পাশ কাটানোর জন্য তারাই (সরকার) একটার পর একটা ঘটনা ঘটিয়ে তারা জনগণের যে দৃষ্টি শক্তিকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমাদের জনগণের মূল যে সমস্যা সেই সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা সুষ্ঠু জবাবদিহিমূলক সরকার চাই, ব্যবস্থা চাই যে ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে, যারা ক্ষমতায় থাকবেন তারা জবাবদিহি থাকবে, এই বিষয়গুলো ব্যবস্থা থাকবে সেখানে জনগণ তার কথা বলতে পারবে।

সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার তো প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন। যিনি রাগ করে কোটা বাতিল করেছিল তিনিই আবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আবেগে নাকি কোটা বাতিল করেছেন! তাহলে বুঝেন কী অবস্থা?’

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। ডান-বাম সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন তিনি।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, নূর মোহাম্মদ খান প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button