উপমহাদেশশিরোনাম

নিখোঁজ বিমানের খোঁজে ভারতের ১৩ যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন

তামিলনাড়ু থেকে আন্দামান যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমান। প্রায় ৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বিমানটিতে ২৯ জন ছিলেন বলে বিমানবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং উপকূল রক্ষী বাহিনী বঙ্গোপসাগরের বিরাট এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
এত বড় তল্লাশি অভিযান ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। নৌসেনা এবং উপকূল রক্ষী বাহিনীর মোট ১২টি যুদ্ধজাহাজকে এই কাজে লাগানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে একটি সাবমেরিনও। বিমানবাহিনীর বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্তা পেয়েই বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২টি যুদ্ধজাহাজকে সর্বোচ্চ গতিতে বঙ্গোপসাগরের ওই নির্দিষ্ট এলাকার দিকে রওনা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বিমানটি যদি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে থাকে তা হলে বঙ্গোপসাগরের কোনো অংশে তার অংশবিশেষ ভাসতে দেখা যেতে পারে। যদি বিমানটি ডুবে গিয়ে থাকে, তা হলে অবশ্য সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তা বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই পাঠানো হয়েছে সাবমেরিন। সেটি সমুদ্রের গভীরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তল্লাশি অভিযানে একটি ডর্নিয়ের-সহ মোট পাঁচটি বিমানও পাঠিয়েছে নৌবাহিনী। যে যুদ্ধজাহাজগুলি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেগুলি হলো সহ্যাদ্রি, রাজপুত, রণবিজয়, কমোর্তা, কির্চ, কার্মুক, কোরা, কুঠার, শক্তি, জ্যোতি, ঘড়িয়াল এবং সুকন্যা।
ভারতীয় বিমানবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ চেন্নাইয়ের কাছে তাম্বরম বিমানঘাঁটি থেকে রওনা দিয়েছিল বিমানটি। আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারে নামার কথা ছিল বেলা ১১টা ৩০ নাগাদ। কিন্তু, ওড়ার ১৫ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে শেষ বার যোগযোগ হয়েছিল। সকাল ৯টা ১২ মিনিট নাগাদ রেডারের আওতারও বাইরে চলে যায় বায়ুসেনার ওই বিমান। তার পর থেকে আর কোনো খোঁজ মেলেনি বিমানটির। যে সময় থেকে বিমানটি নিখোঁজ, তখন সেটি বঙ্গোপসাগরের উপর প্রায় ২৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল বলে বিমানবাহিনীর এক কর্তা জানিয়েছেন। দ্রুত বিমানটির উচ্চতা কমছিল বলে জানা গিয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে বিমানবাহিনীর ওই বিমান কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান বিশেষজ্ঞদের। তবে বিমানবাহিনী সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য এখনও করেনি।
নিখোঁজ বিমানটি এএন-৩২ গোত্রের হওয়াতেই আশঙ্কার মেঘ দেখতে শুরু করেছেন বিমানবাহিনীর কর্তারা। ১৯৯৯ সালে এই গোত্রেরই একটি বিমান দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছিল। ২১ জনকে নিয়ে আকাশে উড়েছিল সেই বিমানটি। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগেই সেটি ভেঙে পড়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button