মানিকগঞ্জে অন্ধ ব্যক্তির হস্তশিল্প

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ধীন সরুপাই গ্রামের বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোঃকিতাব আলী (৬০)। ধারালো দা, বাঁস দিয়ে নিজ হস্তে তৈরী হচ্ছে গ্রামীণ ব্যবহার যোগ্য আসবাবপত্র। নেই কোনো ত্রুটি, অনুমান করেই নিপুণ হতের ছোঁয়ায় তৈরী হচ্ছে বাসের ঝাঁকা, হাস মুরগির খোয়ার সহ বিভিন্ন গ্রামীণ ব্যবহার কৃত আসবাবপত্র। নিজেই পায়ে হেটে গ্রামীণ হাটবাজারে বিক্রি করে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিতাব আলী। কিতাব আলীর ভাষ্যমতে অল্প উপার্জন হলেও সে অন্যের উপর নির্ভরশীল নয়, এক ছেলে ও দুই মেয়ে কে খায়িয়ে পরিয়ে বড় করছি, অভাব যেনো পিছুছাড়েনি টানাটানির সংসার তবু্ও জীবন যুদ্ধে পরাজয় মানিনাই, প্রতিদিনই ধারালো দা য়ে হাত কাটে। মালামাল বাজারে নিতেও কষ্টহয় তবুও কারো কাছে হাতপাতি নাই, আমার স্ত্রী আমার কাজে সাহায্য করে, কখনো আমাকে অবহেলা করেনি, এখন আমি কানেও কম শুনি। দুইটা মেয়ে বিয়ে দিছি, ছেলেও বিবাহিত, মিশুক চালক । আমি অন্যের বোঝা হতে চাই না, কষ্ট হলেও নিজেই কর্ম করে চলবো। কিতাব আলীর স্ত্রী জানান লোকটা অনেক ভালো, বর্তমান সমাজে অন্ধ হয়েও তিনি ভিক্ষা ভিত্তিতে জড়ায়নি, এটা আমার কাছে সম্মান জনক, আমি চেষ্টা করি তার কাজে সাহায্য করতে। কাজ শেষে দেখি লোকটার হাতের বিভিন্ন স্থানে কেটে গেছে অঝোরে চোখের পানি পড়ছে, কিন্তু গরিব মানুষ নিজেকাজ করে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চান।জীবন সংগ্রামের অপরাজিত সৈনিক কিতাব আলী আমাদের চোখের আরালেই থেকে যায়। ছেলে বেলা থেকেই দারিদ্র্যতার সম্মুখীন কিতাব আলী, ছোট সময় থেকেই চোখে কমদেখেন, ত্রিশ বছর যাবত সম্পূর্ণভাবে অন্ধ। সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচে থাকতে বেছে নিয়েছেন এই হস্ত তৈরী আসবাবপত্রের কাজ। হাতের অনুমানে বাস কাটা ও ছেলার কাজ করেন এবং পায়ে হেটে বাজারে বিক্রি করে যে অর্থ পান তাই দিয়ে সংসার কোনো ভাবে চলে যায় কিতাব আলীর।




