তুচ্ছ ঘটনায় মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে পেটালেন প্রতিবেশী

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওরে ছাগলে ঘাস খাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তার মাকে পিটিয়েছে প্রতিবেশী এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের নতুন বালুচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় আজ বুধবার সকালে চারজনকে অভিযুক্ত করে ঘিওর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী রুপ কুমার দাশ। অভিযুক্তরা হলেন আ. রাজ্জাক, তার স্ত্রী শাহানা আক্তার, ছেলে রাজ ও প্রতিবেশী শেফালী দত্ত। এদিন দুপুরে শাহানা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে ওই দুই নারীকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে দেখা যাচ্ছে, আব্দুর রাজ্জাক ওই নারীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারছেন। স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটকানোর চেষ্টাও করছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের আলু ব্যবসায়ী আঃ রাজ্জাকের বাড়ির পাশে উন্নত জাতের ঘাস রোপন করা একটি জমিতে প্রতিবেশী রুপু দাশের স্ত্রী কবিতা দাশের ছাগল ঢুকে ঘাস খায়। কবিতা সেখান থেকে ছাগল আনতে গেলে জমির মালিক আ. রাজ্জাক তাকে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তার হাতের লাঠি দিয়ে কবিতাকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকেন। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কবিতা। এ সময় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মা অনামিকা মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও লাথি মেরে ফেলে দেন রাজ্জাক। আশেপাশের প্রতিবেশীরা এসে মা মেয়েকে উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, মারামারি ঘটনায় দুপক্ষই জড়িত। সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। যারাই এর সঙ্গে জড়িত তাদের শান্তি চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। গোলাপনগর তার গ্রামের বাড়িতে এবং ঘিওর বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলেও জানান এলাকাবাসী।
ঘিওর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহানা আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।




