slider

মানিকগঞ্জে বেহুলা লক্ষিণদর নাটক মঞ্চায়িত

মো.নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : ৩১ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়ত‌নে বিজয় গুপ্ত রচিত পদ্মপুরান অবলম্বনে “বেহুলা লক্ষিন্দর” নাটকটি মঞ্চায়িত হলো। উক্ত নাটক‌টি টিকেট কেটে নতুন অবিজ্ঞতায় উপ‌ভো‌গ করলাম। সুধীজনদের সাথে উপ‌স্থি‌তি থেকে বেশ প্রাণিত হলাম। বিশেষভাবে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সানোয়ারুল হক, মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের বিজ্ঞ পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, ঘাতক দালান নির্মুল কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষ, এ্যাডভোকেট রোমেজা আক্তার খান মাহিন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মামুনসহ নাট্যপ্রেমী সকল দর্শকদের প্রতি অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা।
নাটকের নির্দেশক সাকিল আহমেদ সনেট ও সার্বিক পরিচালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সেলিনা সাইয়েদা সুলতানা আক্তারসহ অভিনয়ের সকল কলাকৌশলীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য যে- বেহুলা প্রাচীন বাংলার সুবিখ্যাত মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র এবং চাঁদ সওদাগরের পুত্র লখিন্দরের স্ত্রী।
চাঁদ সওদাগরের পুত্র লখিন্দর ও তার ব্যবসায়ীক সতীর্থ সাহার কন্যা বেহুলার জন্ম হয় সমসাময়ীক কালে। দুটি শিশুই একসাথে বেড়ে ওঠে এবং একে অপরের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত বলে গণ্য হয়। লখিন্দরের পিতা চন্দ্রবণিক বা চাঁদ সওদাগর ছিলেন হিন্দু দেবতা শিবের একনিষ্ঠ পূজারী। তাই তিনি অন্য কোন দেবতার আরাধনা করতেন না। অপরদিকে শিবের কন্যা মনসা ছিলেন সর্পদেবী, কিন্তু তিনি কোথাও পূজিতা হতেন না। তার পিতা শিব তাকে বলেন যে যদি কোন ভক্তিমান শৈব (শিবের উপাসক) প্রথম মনসার পূজা করেন তাহলেই মর্ত্যে তার পূজার প্রচলন সম্ভব। তখন মনসা চাঁদ সওদাগর কে নির্বাচন করে তাকেই অনুরোধ করেন মনসা পূজার আয়োজন করার জন্য, কিন্তু শিবের উপাসক চাঁদ সওদাগর মনসার প্রস্তাবে অস্বীকৃত হন। মনসা নারী বলে চাঁদ সওদাগর তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও মেনে নিতে পারেনি।

তখন ক্রোধোন্মত্ত মনসা তাকে অভিশাপ দেন যে তার প্রত্যেক পুত্রের জীবন তিনি বিনাশ করবেন। মনসার অভিশাপে এইভাবে একে একে লখিন্দর ব্যতীত চাঁদ সওদাগরের সকল পুত্রই সর্পদংশনে নিহত হয়। তাই লখিন্দরের বিবাহের সময় চাঁদ সওদাগর অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে দেবতা বিশ্বকর্মার সাহায্যে এমন বাসর ঘর তৈরি করেন যা সাপের পক্ষে ছিদ্র করা সম্ভব নয়।

কিন্তু সকল সাবধানতা স্বত্ত্বেও মনসা তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমর্থ হয়। তার পাঠানো একটি সাপ লখিন্দরকে হত্যা করে। প্রচলিত প্রথা অনুসারে যারা সাপের দংশনে নিহত হত তাদের সত্‌কার প্রচলিত পদ্ধতিতে না করে তাদের মৃতদেহ ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হত এ আশায় যে ব্যক্তিটি হয়ত কোন অলৌকিক পদ্ধতিতে ফিরে আসবে। বেহুলা সবার বাঁধা অগ্রাহ্য করে তার মৃত স্বামীর সাথে ভেলায় চড়ে বসে। তারা ছয় মাস ধরে যাত্রা করে এবং গ্রামের পর গ্রাম পাড়ি দিতে থাকে। এই অবস্থায় মৃতদেহ পঁচে যেতে শুরু করে এবং গ্রামবাসীরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে করতে থাকে। বেহুলা মনসার কাছে প্রার্থনা অব্যাহত রাখে। তবে মনসা ভেলাটিকেই কেবল ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

বেহুলার বাসর ঘর একসময় ভেলাটি মনসার পালক মাতা নিতার কাছে আসে। তিনি নদীতীরে ধোপার কাজ করার সময় ভেলাটি ভূমি স্পর্শ করে। তিনি মনসার কাছে বেহুলার নিরবচ্ছিন্ন প্রার্থনা দেখে বেহুলাকে তার কাছে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে চোখের পলকে বেহুলা ও মৃত লখিন্দরকে স্বর্গে পৌছে দেন। মনসা বলেন, তুমি তাকে (লখিন্দর) ফিরে পাবার যোগ্য, কিন্তু এটি কেবলি সম্ভব হবে যদি তুমি তোমার শ্বশুড়কে আবার আমার পূজারী করতে পার।

“আমি পারব,” বেহুলা জবাব দেয় এবং সেই সাথেই তার স্বামীর মৃতদেহে জীবন ফিরে আসতে শুরু করে। তার ক্ষয়ে যাওয়া মাংস ফিরে আসে এবং লখিন্দর তার চোখ মেলে তাকায়। এরপর লখিন্দর বেহুলার দিকে তাকিয়ে হাসে।
তাদের পথপ্রদর্শক নিতাকে নিয়ে তারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। বেহুলা তার শ্বাশুড়ির সহযোগীতায় চাঁদ সওদাগরকে মনসার উপাসনা করতে সম্মত করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button