ধর্ষণের পর গৃহকর্মীর সন্তানপ্রসব যুবলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

কাপাসিয়া প্রতিনিধি : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর সন্তান প্রসবের ঘটনায় আলোচিত কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। কাপাসিয়া থানার ওসি এএইচএম লুৎফুল কবির এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ২০ জুলাই গাজীপুর নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক পলাতক আসামি হিসেবে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ওয়ারেন্ট জারি করেন। কিন্তু কাপাসিয়া থানায় পরোয়ানাটি জমা হতে প্রায় ৬ দিন লেগে যায়। গত ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাখাওয়াত হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে ছিলেন চেয়ারম্যানের বাসার গৃহকর্মীর বাবা হাবিবুর রহমান। কাপাসিয়া আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচিত হতে থাকে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও গত কয়েকদিন চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন কাপাসিয়া থানার প্রধান গেইটের সামনে স্থানীয় চেয়ারম্যান অফিসে দাপ্তারিক কাজ ও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রায়ই গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করতেন চেয়ারম্যান সাখাওয়াত। একপর্যায়ে গৃহকর্মী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয় পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির এক কাজের ছেলের সঙ্গে জোড়পূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পরই কাজের ছেলে পালিয়ে যায়। পরে গৃহকর্মীকে চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কিশোরী বাবার ভাড়া করা বাড়িতে ২০২২ সালের ১ আগস্ট এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। ঘটনাটি ওই সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন ওই বাড়ি থেকে নবজাতকসহ কিশোরী মাকে অপহরণ করে। বিষয়টি চেয়ারম্যান ও তার অনুসারী লোকজন এটি ষড়যন্ত্র ও স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে দায়ী করেছিলেন।
এদিকে চেয়ারম্যানের ফোনে বার বার ফোন দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিক মেম্বার ও ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাত থেকে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
থানার ওসি লুৎফুল কবির জানান, ওয়ারেন্ট হাতে পাওয়ার পর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



