slider

৪ কোটি টাকার ব্রীজের কাজ বন্ধ। বাঁধ ধ্বসে বন্ধ ১০ গ্রামের সড়ক যোগাযোগ

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার হিজুলিয়া এলাকায় ইছামতি নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকার ব্রীজ। ফলে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরাতন জীর্ণ ব্রীজটি। নতুন ব্রীজ নির্মান কাজের জন্য নির্মানস্থলের দুপাশে দেয়া হয় বাঁধ। এ বাঁধের উপর দিয়েই চলাচল করতেন বড়টিয়া ও ঘিওর সদর ইউনিয়নের কমপক্ষ্যে ১০ গ্রামের বাসিন্দা।

গত সোমবার রাতে হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাঁধের সংযোগস্থলের ৩০ ফুট ধ্বসে গেছে। ফলে ঘিওর সদরের সঙ্গে এসব গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুপাড়েই আটকা পরেছে অনেক মোটর সাইকেল, অটো, রিকশা, ভ্যান, টেম্পুসহ নানা যানবাহন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলায় সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় এই দূর্ভোগে পরেছেন তাঁরা। ধীর গতিতে কাজ শুরু করলেও হঠাৎ মাস ছয়েক আগে কাজ বন্ধ করেন ঠিকাদার। তাই সময়মতো শেষ হয়নি ব্রীজ নির্মাণ। ব্রীজ নিমৃাণ হলে এই দূর্ভোগে পড়তে হতো না হাজারো মানুষের।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইছামতি নদীর ওপর হিজুলিয়ায় ৩৭ মিটার র্দৈঘ্যের ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার ব্রীজের ট্রেন্ডারের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর। এক বছরের নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ০৩-০৬-২০২৪ তারিখ। কাজের ৪৫ শতাংশ এখনো বাকি আছে।

এ বিষয়ে হিজুলিয়া গ্রামের খন্দকার হুমায়ূন কবির বলেন, হিজুলিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় নির্মিত পাকা সেতুর পাশে ডাইভারশন সড়কের ৩০ ফুট ধ্বসে পড়েছে। চলাচলে ভোগান্তিতে পরেছি। পরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় যুব সমাজের সহায়তায় সহায়তায় স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে পায়ে হেঁটে চলার মতো বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। দুপাশেই আটকে পরেছে যানবাহন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়টিয়া, হিজুলিয়া, নেকিরকান্দি, বহলাকুল, বরড়া, নয়াচরসহ কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ এক বাঁশের পুল দিয়ে পাড়াপাড় হচ্ছেন। অনেকেই কাপড় ভিজিয়ে পণ্য সামগ্রী পার করছেন। ওই ভাঙা অংশ পার হতে নারী-শিশু, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হিজুলিয়া যুবসমাজের উদ্যোগে স্থানীয় রমজান মেম্বার, খন্দকার হুমায়ুন, আলামিন, সামছুল, আসলাম প্রধান, মাসুদ, বাতেন, সোহেল, আজুমদ্দিন এই বাঁশের সাঁকো তৈরীতে সহায়তা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম প্রধান বলেন, নির্মাণাধীন সেতুটির পাশে বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এই বাঁশের সেতু দিয়ে শিশু শিক্ষার্থী ও বয়স্করা পাড় হতে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটছে। সেতু না থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঠিকাদার আর এলজিইডি অফিসের দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ আছে। এলাকার মানুষ দুর্ভোগে থাকলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ শেষ না হওয়ায় ইছামতি নদীতে জোয়ারে বাধঁ ভেঙ্গে গেছে। আমার মতো সব ব্যবসায়ীদের খুব ক্ষতি হচ্ছে। শহর থেকে মালামাল নিয়ে ভাঙ্গনের পাশে গিয়ে আটকে পরছে। সেই মালামাল নদী পাড় করে আবার অন্য যানবাহনে আনতে হচ্ছে। এতে খরচ তিনগুণ বেড়ে গেছে।

সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন জিতু বলেন, এই কাজে আমার অনেক লোকসান। দ্বিধা দ্বন্দে কাজে কিছুটা মন্থর গতি ছিল। তবে দুই বার সময় বর্ধিত করে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় নিয়েছি। বর্ষা মৌসুম শেষ না হলে কাজ শুরু করা সম্ভব না।

বড়টিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শামসুল আলম রওশন বলেন, জনগনের সেবায় আমরা নিয়োজিত। ব্রিজটি আমি ও ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী পরির্দশন করেছি। আমার পরিষদ থেকে দ্রুত জনগনের পারাপারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা প্রকৌশলী মো: আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, করোনা ও দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কিছু কিছু করে কাজ করছে। গাডার তৈরি করতে হবে এখন করা সম্ভব না। বর্ষার পানি আসায় কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার কাজ না করার কোনো অপশন নেই, কাজ করতে হবে। আপাতত জনগনের ভোগান্তিটা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে নিতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button