slider

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক মামলায় পুলিশের এস,আই সহ ২ জনের যাবজ্জীবন

মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,,ঠাকুরগাঁও জেলায় চাঞ্চল্যকর একটি মাদকের মামলায় পুলিশের বরখাস্তকৃত এস,আই সহ ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ এবং ১২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করে আদালত। ২১ জুন বুধবার ঠাকুরগাঁও সিনিয়র দায়রা জজ মামুনুর রশিদ এ রায় প্রদান করেন। অপর ধারায় উল্লেখিত ২ আসামীর ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানাও প্রদান করে আদালত। এছাড়াও এ মামলায় অপর আসামী মো: মাসুদ রানা কে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ জুন ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশের সাধারণ ডায়েরী নং-১৮৫ এর প্রেক্ষিতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পীরগঞ্জ থানার সেনুয়া বাজারে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে ডিবি পুলিশের টিম জানতে পারে, পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর বেষ্টিত পুরাতন ডাক বাংলোর আঙ্গিনায় ৩ জন লোক মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ডিবি পুলিশের টিমটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তৎকালীন পীরগঞ্জ থানার পুলিশের এস,আই হেলাল উদ্দীন প্রমানিক (৪২) কে নীল রংয়ের পলিথিন ব্যাগ ধরে রাখা অবস্থায় আটক করা হয়। পরে নীল রংয়ের ব্যাগটি থেকে মোট ৫ হাজার পিস ও অপর আসামী মানিক দাসের দেহ তল্লাসী করে ৩ হাজার সহ মোট ৮ হাজার পিস মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে হেলাল উদ্দীন প্রামানিকের দেওয়া তথ্য মতে তার বাড়ির শয়ন ঘরের খাটের নিচ থেকে ২ কেজি গাঁজাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঐ দিনই ডিবি পুলিশের এস,আই (নি:) রুপ কুমার সরকার বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে পীরগঞ্জ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘদিন বিচারান্তে অবশেষে মামলার প্রথম আসামী তৎকালীন পীরগঞ্জ থানার এস,আই নওগাঁ জেলার দরিয়াপুর গ্রামের মৃত জগি প্রামানিকের ছেলে মো: হেলাল উদ্দীন প্রমানিক (৪২) ও মামলার দ্বিতীয় আসামী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার মন্ডলাদাম গ্রামের মৃত বাদল দাসের ছেলে মানিক দাস (৩৫) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ ও ১২ লাখ টাকা জরিমনার আদেশ প্রদান করে আদালত। মামলার রায় প্রদানের সময় মানিক দাস পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় মামলার ৩ নং – আসামী মো: মাসুদ রানা (২৮) কে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী ছিলেন ঠাকুরগাঁও পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. শেখর কুমার রায়। অপরদিকে আসামীপক্ষে ছিলেন এ্যাড. মো: রফিজ উদ্দিন সহ কয়েকজন আইনজীবী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button