
আজ ২৮ মে ২০২৩ বেলা ১১ টায় মালিবাগ রেলগেটের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা দক্ষিণের পদযাত্রা শুরু হয় এবং বাড্ডার সমাবেশের মাধ্যমে পদযাত্রা শেষ হয়। অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারসহ ১৪ দফা দাবিতে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশ আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচী হিসাবে ছিল এই পদযাত্রা।
পদযাত্রার পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও সরকারি দলের জবরদস্তি করে আর একটি একতরফা জালিয়াতির নির্বাচনী পাঁয়তারার মুখে মার্কিন ভিসানীতি ঘোষিত হয়েছে। সরকার দেশে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়ায় মার্কিন প্রশাসন দেশের জন্য চরম লজ্জাজনক এই ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। সরকার দেশকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা পাওয়া নাইজেরিয়া, সোমালিয়া আর উগান্ডার পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এখন তাদের কথিত উন্নয়নের জারিজুরির আড়ালে দমনমূলক ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের স্বরুপ জেনে গেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ এখন আর ভোটের অধিকার – গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না; জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকতেই তারা পছন্দ করে। কিন্তু দেশের এবার আর তা হতে দেবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই সরকার ভেসে যাবে।
নেত ৃবৃন্দ গণসংগ্রাম জোরদার করে এই সরকারকে বিদায় দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গগণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিরা রব। । সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান।
সমাবেশ ও পদযাত্রায় আরও অংশগ্রহণ করেন গনতন্ত্র মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা নাগরিক ঐক্য এর সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামালউদ্দিন পাটোয়ারী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন প্রমুখ।
সমাবেশে মঞ্চের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের অন্যায় জবরদস্তি শাসন দেশকে ভয়ংকর বিপদে নিক্ষেপ করেছে, দেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করে তুলেছে। তিনি আর একটি একতরফা জালিয়াতির নির্বাচনের আগেই এই সরকারকে বিদায় দেওয়ার আহবান জানান।
তিনি আগামী ৪ থেকে ৭ জুন গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা-দিনাজপুর রোমার্চের কর্মসূচী সফল করার ডাক দেন।
সমাবেশে মাহমুদূর রহমান মান্না বলেন এই ভোট চোর সরকারের কারণে দেশ ও দেশের মানুষ অপমানিত হচ্ছে ভোট ডাকাত গনবিরোধী সরকারকে দেশের মানুষ আর দেখতে চায়না। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা এই সরকারকে বিদায় দেব। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎসব করে এখন সরকার দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।
জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশে ভোটের অধিকারসহ নির্বাচনী ব্যবস্থা থাকলে এক মার্কিন ভিসানীতিতে সরকার এতখানি বেসামাল হোত না। এই সরকারের পায়ের নীচে মাটি না থাকায় নানা ছুতায় বিরোধী দল তাদের আন্দোলনকে দমন করতে তৎপর। কিন্তু দেশের মানুষ এই সরকারকে বিদায় দিয়েই ঘরে ফিরবে।
শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন গায়ের জোরে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যেয়ে এই সরকার দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ অন্যেরাও এই সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তিনি এই সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলনের আহবান জানান।
এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, মার্কিন ভিসা নীতির ফলাফল পেয়েছে গাজীপুরের ভোটারেরা। অবাধে ভোট দেবার প্রথম সুযোগে নৌকার প্রার্থীকে তারা হারিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই।এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তানিয়া রব বলেন, মার্কিন ভিসানীতির পর এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কোন বক্তব্য দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন,অতীতে দমন নিপীড়ন চালিয়ে কোন স্বৈরাচারী সরকার শেষ রক্ষা করতে পারেনি,এই সরকারও শেষ রক্ষা করতে পারবে না: দেশের মানুষ এই সরকারকে অচিরেই বিদায় দেবে।
সমাবেশ শেষে তীব্র গরম উপেক্ষা করে নেৃতৃবৃন্দসহ মালিবাগ রেলগেট থেকে পদযাত্রা শুরু হয় এবং মেরুল বাড্ডায় এসে পদযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এখানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আরও একবার রোড়মার্চ এর কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকা উত্তরের পদযাত্রা সফল করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।




