উপমহাদেশশিরোনাম

একটা ইলিশের দাম ২৬ হাজার টাকা!

একটা ইলিশ মাছের দাম কত হতে পারে? দু-চার হাজার টাকা? না, প্রায় ২৬ হাজার টাকা! পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় মাছটি বিক্রি হয়েছে। সেখানে ‘জামাই ষষ্ঠী’ নামের একটি সামাজিক উৎসব চলছে। মেয়ের জামাইয়ের পাতে দেয়ার জন্য ২২ হাজার রুপিতে এক ব্যক্তি ইলিশ মাছটি কিনেছেন বলে ‘এই সময়’ জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, নিলামে উঠলো চার কেজি ওজনের ইলিশ মাছ৷ চোখের নিমেষে দর উঠল কুড়ি হাজার ছাপিয়ে৷ বিনা বাক্যব্যয়ে কড়কড়ে ২২টি হাজার টাকা গুনে দোকানির হাতে দিয়ে চার কেজির ইলিশ বগলদাবা করে ফেললেন নাগেরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মোহম্মদ ইমতিয়াজ৷ তিনি জানালেন, জামাই-ষষ্ঠী উপলক্ষে এক খদ্দেরের কথাতেই মাছটি কিনে ফেলেছেন৷ আর ৪ কিলো ওজনের বর্মার ওই ইলিশ নাকি স্বাদে-গন্ধে কোনা অংশেই পদ্মার ইলিশের চেয়ে কম যায় না৷ তার জন্য ২২ হাজার টাকা কোনো ব্যাপারই না৷

হাওড়ার পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ার মাকসুদ জানালেন,’আমাদের এখানে ইলিশের আকাল চলছে গত কয়েক বছর ধরে৷ বাংলাদেশ থেকে ইলিশের আমদানিও বন্ধ হয়ে গেছে৷ তাই ভালো স্বাদের ইলিশ পেতে এখন জাহাজে চেপে আসা মিয়ানমারের বা ব্রহ্মদেশের ইলিশই আমাদের ভরসা|’হাওড়া মাছ বাজারের দোকানিরা জানালেন,’গত কয়েক বছর ধরেই ব্রহ্মদেশ থেকে ইরাবতী নদীর ভালো, সুস্বাদু ইলিশ আমদানি হচ্ছে এখানে৷ ব্রহ্মদেশের ওই ইলিশ স্বাদে-গন্ধেও অতুলনীয়৷ কোনও অংশে তা পদ্মার ইলিশের চেয়ে কম যায় না৷

তবে জাহাজে আমদানি হয় বলে তার দামও একটু বেশি পড়ে৷ তাই যে শ্বশুর-শাশুড়িরা গাঁটের কড়ি খরচ করে ষষ্ঠীতে জামাইবাবাজিকে ভাপা-ইলিশ বা ইলিশের পাতুরি খাওয়াবেন বলে মনস্থ করেছিলেন, তাদের কাছে এ ছাড়া আর উপায় কী? আনোয়ার মাকসুদের কথায়,’এমনিতে ১ কেজি থেকে দেড় কেজি বা একটু বড় সাইজের বার্মার ইলিশের পাইকারি দাম হাজার টাকা থেকে ১২০০-১৩০০, খুব বেশি হলে দেড় হাজার৷’ তবে শুক্রবার জামাই ষষ্ঠী ছিল বলে জিনিসপত্রের দাম শুরু থেকেই ছিল ঊর্ধ্বগামী৷ ইলিশেরও চাহিদা ছিল ভালোই৷ তারই মধ্যে একটি বাক্স খুলে আনোয়ারের চক্ষু চড়কগাছ৷ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কয়েকটা মিনিট সময় লেগেছিল তার৷ বাক্সটার ভিতরে চকচক করছে ৪ কেজি ওজনের পেল্লায় একটা ডিমভর্তি ইলিশ৷ ওমন মাছ হাতের সামনে পেলে কে আর সুযোগ ছাড়তে চায়! সবারই চাই ওই ইলিশ,’এক্কেবারে গোটা’৷ কিন্ত্ত একটাই তো মাছ৷

অগত্যা নিলাম শুরু হলো বাজারে৷ তত ক্ষণে খবর পেয়ে এক খদ্দেরের ফরমায়েস নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন নাগেরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মোহম্মদ ইমতিয়াজ৷ ওই খদ্দেরের নাকি দাবি ছিল,’দাম যতই হোক না কেন, ইলিশটি তার চাই-ই চাই৷’সে কথা মাথায় রেখে ইমতিয়াজও ইলিশ কেনার দর হাঁকাহাঁকিতে নেমে পড়েন৷ নিলামে ওঠার সময় মাছটির দর ছিলো কেজি প্রতি আড়াই হাজার৷ এরপর গড়িয়াহাট, লেক মার্কেট সহ শহরের সব বড় বড় মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাই দর হাঁকতে থাকেন তাদের দামি খদ্দেরদের কথা ভেবে৷

কিন্ত্ত সবাইকে টেক্কা দিয়ে নগদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকাকেজি প্রতি দাম দিয়ে শেষ পর্যন্ত ইমতিয়াজই কিনে নেন মাছটি৷ আর ৪ কেজির পেল্লায় ইলিশের জন্য গুনে দেন কড়কড়ে বাইশ হাজার টাকা৷ তখন জয়ীর হাসি ইমতিয়াজের ঠোঁটের কোণে৷

উচ্ছ্বাস চাপতে না পেরে বললেন,’আমার এক বাধা খদ্দের তাঁর জামাইকে বাজারের সেরা ইলিশটা খাওয়াবেন পণ করেছেন৷ দামের পরোয়া তিনি করেন না৷’ বেঁচে থাকুন গৌরী সেনরা৷ বেঁচে থাকুক জামাইয়ের রসনা তৃপ্তিতে বাঙালির ‘ডোন্ট কেয়ার’ মেজাজ৷

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button