slider

এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরিবারকে একঘরে : গ্রেফতার ৫

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আগকলিয়া এলাকায় গ্রাম্য মাতাব্বরদের কথায় বিচারে উপস্থিত না হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েসহ মো.হানিফ কাজীর পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে। বাড়িঘর থাকতেও অন্যের বাড়িতে বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভুক্তোভোগীরা। এঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রাম্য মাতাব্বরসহ ১২জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হানিফ কাজীর স্ত্রী নাছিমা আক্তার। এর আগে গত বুধবার (১০মে) স্থানীয় বিচারের মাধ্যমে একঘরের সিদ্ধান্ত দেয় স্থানীয় গ্রাম্য মাতাব্বররা।

এক ঘরে করার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২০ মে) গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া হোসেন।
গ্রেফতাররা হলেন—উপজেলার আগকলিয়া গ্রামের পাষান কাজী, ইউনুস কাজী, বাতেন কাজী, আনছের কাজী ও হাসেম উদ্দিন হাসু।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মে) হানিফ কাজীর স্ত্রী নাছিমা আক্তার দৌলতপুর থানায় ১২ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, বড় ভাই হালিম কাজীর বাড়ির লোহার গেটের কারনে ছোট ভাই বাতেন কাজীর অটোবাইক বাড়ির ভিতরে ঢুকতে না পারায় ঢাকার চাকুরীজীবি ভাইকে লোহার গেট ভেঙে দিতে বলেন ছোট ভাই বাতেন কাজী। বেশ কয়েকবার বলার পরও লোহার গেট না ভাঙায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতাব্বরদের কাছে বিচার দেয় বাতেন কাজী। ঢাকায় চাকুরী করায় বড় ভাই হানিফ কাজীকে ফোন করে এবং বাড়ির রাস্তা স্থানীয়ভাবে মিমাংসার গতবুধবার তারিখ ঠিক করে স্থানীয়ভাবে বসার ব্যবস্থা করেন গ্রাম্য মাতাব্বররা। কিন্তু চাকুরীর কারনে আসতে না ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রাম্য মাতাব্বররা হানিফ কাজী ও তার পরিবারকে একঘরে করে। এরপর স্থানীয়দের হানিফ কাজীর পরিবারের সদস্যদের সাথে মিশতে নিষেধ করা হয় এবং হানিফ কাজীর পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্রয়-বিক্রয় করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করে গ্রাম্য মাতাব্বররা। সেই সঙ্গে হানিফ কাজীর বাড়ির রান্নাঘর, বাথরুম, টয়লেট এর সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে দেয় গ্রাম্য মাতাব্বররা।

ভুক্তভোগী নাছিমা আক্তার বলেন, চাকুরীর জন্য আমার স্বামী ঢাকায় থাকে। তাই বিচারের দিন আমরা কেউ বিচারে ছিলম না। এই রাগের গ্রামের মাতাব্বর ইউনুস কাজী, পাষান কাজীসহ বিচারে আসা লোকজনেরা মিলেমিশে আমাদের একঘরে করে দেয় এবং রান্নাঘর, বাথরুম, টয়লেট এর সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে দেয়।বেড়া দেওয়ার পর কয়েকদিন বাড়িতে ছিলম। কিন্তু রান্নাঘর, বাথরুম, টয়লেটের সমস্যার কারনে এবং মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার কারনে বাধ্য হয়ে গ্রামের পাশের এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেই। বর্তমানে সেখানে আছি এবং মেয়েকে পরীক্ষা দেওয়াচ্ছি। গ্রাম্য মাতাব্বরদের কাছে গিয়েও বেড়া খুলে দিতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কাজ না হওয়ায় পরে থানায় অভিযোগ করেছি। আশা করি আইনের মাধ্যমে আমি সঠিক বিচার পাবো।
এসএসসি পরীক্ষার্থী হানিফ কাজীর মেয়ে তামান্না ইসলাম বলেন, বেড়া দেওয়ার পরও বেড়ার ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করে কষ্ট করে কয়েকদিন ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম, বেড়ার ফাঁকাও বন্ধ করে দিছে আর দোকানে গেলে দোকানদারও কথা বলেনা, কিছু বিক্রিও করেনা। পরে পরীক্ষা দিতে এবং জীবন বাঁচাতে পরিচিত এক চাচার বাড়িতে আমি আর মা আশ্রয় নিছি। ওই চাচার বাড়িতে থেকে এখন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
অভিযুক্ত ইউনুস কাজী ও পাষান কাজী মাতাব্বর বলেন, গ্রামের মাতাব্বরদের কথা অমান্য করায় হানিফ কাজীর পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে। গ্রামে থাকলে গ্রামের মাতাব্বরদের কথা আগে শুনতে হবে, তার পর আইন মানতে হবে। এতে করে আইন অমান্য হলেও আমাদের কিছু করার নাই। দেখি হানিফ ও তার পরিবার আমাদের কি করতে পারে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, গত রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button