slider

সুনামগঞ্জে ঘোড়দৌড়ের নামে জুয়ার আসর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মোল্লা পাড়া ইউনিয়নে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতার নাম ব্যবহার করে চলছে ক্যাসিনো জুয়ার আসর৷ শুধু তাই নয় এই ঘোরা দৌড় প্রতিযোগিতার নামে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর চলছে জুয়া খেলার আসর৷ স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় পসরা সাজিয়ে আয়োজন করা হয়েছে বাহারি জুয়ার আসরে৷ বাহারি জুয়া খেলার মধ্যে রয়েছে- ক্যাসিনো, মুকুট রিং, রিং খেলা সহ মাদক সেবন করা হচ্ছে খোলা মাঠে । আর আনাচে কানাচে ছোট ছোট তাবু ঘর বানিয়ে রাখা হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক উপরে ছোট ছোট কুটির । রাত বারোটার পর থেকে শুরু হয় ঐ সমস্ত তাবুতে মাদক সেবন জুয়া খেলা ও অসামাজিক কার্যকলাপ দেখেও না দেখার ভান করছেন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা৷ বারংবার গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি তাদের জানালেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমনটাই প্রকাশ পায় মেলা চলাকালীন সময়ে। এছাড়াও মাইকিং করে নিষেধ করা হয়েছে মেলার ভিতরে কেউ যাতে মোবাইলে কোন ছবি ধারণ করতে না পারে । সেই জন্য চেয়ারম্যান এবং ইউপির সদস্যদের সমন্বয়ে এলাকার কিছু উশৃঙ্খল ছেলেদের রাখা হয়েছে ভাড়াটিয়া হিসেবে । যদি কেউ ঐ সমস্ত জুয়া খেলার ছবি তুলে তাহলে তার ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে।

২৯ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যা হতে শুরু হয়ে রাতভর চলে জুয়ার রমরমা আসর৷ এতে সুনামগঞ্জ জেলা সহ বিভিন্ন এলাকা হতে যুক্ত হন যুবক কিশোর বৃদ্ধ সহ নানান শ্রেণী পেশার মানুষ৷ ৩০ জানুয়ারি সকালে শুরু হয় ঘোড়দৌড় তা চলে সন্ধ্যা অবদি৷ এর পরবর্তীতেই আয়োজন চলে জুয়ার পসরা৷ এর নেপথ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদের নাম শুনা যায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নাম৷

সরে জমিনে ঘুরে দেখা যায় এবং স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই নাকি রাতের বেলায় চলেঐ সমস্ত কার্যকলাপ । তবে মুখ খুলতে নারাজ সাধারণ মানুষেরা। এছাড়া আরো জানা যায় ওই এলাকার সুশীল সমাজের মুসলিম জনতা ওই সমস্ত জুয়ার আসর না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানানো হলে তা আমলে নেয়া হয়নি৷ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, সমাজের চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে জুয়ার আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপে নগ্ন চরিত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষ জানান, দূর দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা কৌতুহলী জনতা রাতের বেলায় ঐ সমস্ত অসাধু কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছেন এবং ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ গ্রামে। এভাবে চলতে থাকে সুনামগঞ্জের যুবসম্প্রদায় ধ্বংস হতে আর বেশি দূরে নয় শুধু সময়ের ব্যাপার বলে জানিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা । ঘনঘন মেলা আয়োজনের মাধ্যদিয়ে সুনামগঞ্জের অর্থব্যবস্থা লুটে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের পকেটের টাকাl করুণা মহামারী বন্যা দুর্যোগ পরপরই ঘন ঘন মেলা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেই প্রশ্ন ভাবিয়ে তুলেছে সাধারণ মানুষকে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুনামগঞ্জের ভারসাম্য এবং পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই দাবি সাধারণ মানুষের।

এ ব্যাপারে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে নারাজ।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এহসান সাহের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button