slider

কুড়িগ্রামে জিও ব্যাগের কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইসমত ত্বোহার এবং উপ সহকারী প্রকৌশলী ইফাত হাসানের তত্ত্বাবধানে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নে প্রবাহিত দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগের বাস্তবে কাজ শেষ না হলেও কাগজপত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী শিলখুড়ী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকার গাবেরতলের হাফিজুল ইসলামের বাড়ী থেকে মনছুর আলী মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ ও বসতভিটা ভয়াবহ দুধকুমার নদী ভাঙন থেকে রক্ষার্থে গত ১৯জুন ২০২২ তারিখে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইসমত ত্বোহা এবং উপ সহকারী প্রকৌশলী ইফাত হাসানের। তত্ত্বাবধানে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৪হাজার ৪৪২টি ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগের বরাদ্দ হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী যোগসাজশ করে ৪হাজার ৪৪২টি জিও ব্যাগের মধ্যে মাত্র ১হাজার ৫০টি জিও ব্যাগ নদী ভাঙন রোধে কাজ করে। বর্তমানে অবশিষ্ট ইমার্জেন্সি বালি ভর্তি ২শতাধিক জিও ব্যাগ উত্তর ধলডাঙ্গা নামাচরের জমিতে রয়েছে এবং উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কক্ষে প্রায় ১হাজার ৬শত জিও ব্যাগ জমা আছে। ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ প্রকল্পের যে পরিমাণ কাজ হয়েছে সেখানে কাজের মান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, একনেক প্রকল্পের আওতায় ভুরুঙ্গামারী ধলডাঙ্গা থেকে যাত্রাপুর পর্যন্ত নদী শাসন ও বাধঁ মেরামত চলমান প্রকল্পের আওতায় নাগেশ্বরী উপজেলা বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সদ্দারের ভিটা গ্রামে মেসার্স মোস্তফা এন্ড সন্স এর ডাব্লু- ৩১ ও ৩২ নম্বর প্যাকেজের ঠিকাদার শাহাদত হোসেন দুইদফা বন্যার সময় অনিয়মিতভাবে ১০হাজার থেকে ১২হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে কাজ করায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধঁ ভেঙে যায়। ডাব্লু- ৩১ ও ৩২ নম্বর প্যাকেজের প্রায় ২০হাজার জিও ব্যাগ দুধকুমার নদের মাঝে মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে ভরাট করার শেষ পর্যায়ে গত দুইদফা বন্যায় জিও ব্যাগগুলো নষ্টের উপক্রম হয়ে যায়। সেখান থেকে কিছু জিও ব্যাগ নৌকা যোগে নদীপাড়ে ফেলেন। অবশিষ্ট জিও ব্যাগ দুধকুমার নদীর মাঝেই থেকে যায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনিয়মিতভাবে ১০হাজার থেকে ১২হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে কাজ করার পরেও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইসমত ত্বোহা এবং উপ সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদ সরোয়ারের যোগসাজশে ঠিকাদারকে ২৪হাজার জিও ব্যাগের টাকা পরিশোধ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকার আসাদুর রহমান, মোকছেদ আলী, সুরুজ্জামান, মালেক ডাক্তার, আনছের আলী, বাবুল আলী, আব্দুল বাকী, আব্দুস সালাম বলেন, এমারজেন্সি জিও ব্যাগ ৪হাজার ৪৪২টির মধ্যে ১হাজার ৫০টি জিও ব্যাগ নদীর ভাঙন রোধে কাজ করে। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী যোগসাজশে ঠিকাদার বরাদ্দকৃত কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। এতে দুধকুমার নদীর ভাঙনে দুটি মসজিদ ও দশটি বসতবাড়ী, জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী থেকে উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে ৪০মিটার দুরে। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রন্থ হয়ে পড়েছি। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সদ্দারের ভিটা গ্রামের মকবুল, হোসেন, হাসেম আলী বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডাব্লু- ৩১ ও ৩২ নম্বর প্যাকেজের প্রায় ২০হাজার জিও ব্যাগ দুধকুমার নদের মাঝে মাটি মিশ্রিত বালু দিয়ে ভরাট করার শেষ পর্যায়ে গত দুইদফা বন্যায় জিও ব্যাগগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ঠিকাদার অনিয়মিতভাবে ১০হাজার থেকে ১২হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে কাজ করে কিভাবে তারা ২৪হাজার জিও ব্যাগের বিল পায়।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইসমত ত্বোহার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, উত্তারঞ্চল, রংপুর এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞা বলেন, একনেক প্রকল্পে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে সে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। উধ্বতর্ন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button