নুসরাত হত্যা মামলা : পুনঃতদন্তের দাবিতে আবারো এলাকাবাসীর বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ফেনী প্রতিনিধি : সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার পুনঃতদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। এসময় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম ও নুসরাতের পরিবারের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে সোনাগাজী পৌর শহরের নুসরাতের মাদরাসা সোনাগাজী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার গেটের সামনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্বজন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বীর মুক্তিযোদ্বাদের উপস্থিতিতে শহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সৈয়দ দ্বীন মোহাম্মদ, উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্বা সাবেক ডিপুটি কমান্ডার ইসমাঈল হোসেন, সোনাগাজী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ জাহান, আবদুল কাদেরের বাবা আবুল কাশেম, জাবেদ হোসেনের বাবা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ প্রমুখ।
মুক্তিযোদ্বা সাবেক ডিপুটি কমান্ডার ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘নুসরাতের পরিবার আমাদের আত্মীয়, নুসরাতের আত্মহত্যার বিষয়ে আমরা প্রথমে না জানলেও পরবর্তীতে জানতে পারি নুসরাত আত্মহত্যা করেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমীন ও কমিশনার মাকসুদ আলমসহ অনেককে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। যেহেতু আদালতের রায় হয়েছে। তাই আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, বিচারটি পুনঃতদন্ত করা হোক।’
আবুল কাশেম ও রহমত উল্যাহ বলেন, ‘উক্ত ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ন্যায়বিচার করতে বললেও পিবিআই স্থানীয় রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আত্মহত্যার ঘটনাকে হত্যায় রূপান্তর করে ১৬ জন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসির আসামি বানিয়েছে।’ এছাড়া পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের ঘুষ বাণিজ্য, আসামি আফসার উদ্দিনের কাছে নুসরাতের আত্মহত্যা করবে বলে পাঠানো এসএমএস ও ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজ গায়েব, গ্রেফতারকৃতদের বৈদ্যুতিক শর্ট, ড্রিল মেশিন ব্যবহার এবং বিবস্ত্র করে স্বীকারোক্তি আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা করেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর একই দাবিতে সোনাগাজীতে ও ১৬ অক্টোবর ফেনী শহরের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদরাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে নুসরাস রহস্যজনক উপায়ে অগ্নিদগ্ধ হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ মামলার রায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। বর্তমানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি কারাগারে রয়েছেন। আসামিদের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।




