slider

চরফ্যাশনে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে ২০ শিক্ষকের এমপিও ভূক্তির চেষ্টা

আবদুস সাত্তার, লালমোহন প্রতিনিধিঃ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ২০ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ভূক্তির আবেদন প্রেরণ করে বিপাকে পরেছেন চরফ্যাসন উপজেলার হাজারীগঞ্জ মোহাম্মদীয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন (ফিরোজ)।
সরকার কর্তৃক চলতি বছরের ৬ জুলাই ঘোষিত এমপিওর তালিকায় স্থান পান ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার হাজারীগঞ্জ মোহাম্মদীয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওর আদেশের পরে মাদ্রাসার সুপার মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বাদ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ সংক্রান্ত সকল স্বাক্ষর নিজ হাতে দিয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে এমপিও ভূক্তির আবেদন প্রেরণ করেন।
পদ বঞ্চিতরা এ খবর পেয়ে ভোলা জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল মেজিষ্ট্রেট এর আমলী আদালতে তিনটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর এমপি ৫৬৯/২২, ৫৫৩/২২ ও ৫৪৬/২২। আদালত মামলা তিনটি আমলে নিয়ে সিআইডি ভোলাকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করলে সিআইডি ভোলা তদন্তের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সৃজিত শিক্ষক-কর্মচারীদের ০৩/১০/২০০৪ ও ১০/১২/২০০৪ ইং তারিখের ইনকিলাব সহ বিভিন্ন পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে যে পত্রিকা সৃজন করা হয়েছে মূলত উক্ত পত্রিকায় এ মাদ্রাসার কোন বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়নি। চাদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় তজুমদ্দিন এর ২০০৪/৪১ তাং ২০/১০/০৪ তারিখের স্বাক্ষরিত ডিজির প্রতিনিধির পত্রটিও জাল, এমনকি ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত শিক্ষক নিয়োগের প্রাপ্যতা ও ডিজির প্রতিনিধির পত্রও সৃজিত। স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল হক ও মোস্তফা কামালের।
সুপার কর্তৃক তার মেয়ে, ছেলে, জামাতা, ভাগিনাসহ কতিপয় নিকটাত্মীয়কে নিয়োগ দিতে গিয়ে ও বিপুল পরিমান উৎকোচ গ্রহন পূর্বক এ জাতীয় জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা অীভযোগ করেন। সুপার সহ গোলাম মাওলা ও সুপারের মেয়ের সনদ নিয়ে ও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিয়োগকালীন সভাপতি প্রাক্তন চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল হক জানান তিনি এ মাদ্রাসার কোন নিয়োগের কাগজে স্বাক্ষর করেননি, যা তিনি মাদ্রাসা অধিদপ্তরকে অবহিত করেছেন। তবে মাদ্রাসাটির এমপিওর আদেশ প্রাপ্তির পর চরফ্যাসন বাজারের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তাকে কিছু নিয়োগের কাগজে সাইন করতে বললে তিনি তার প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করেন।
২০০৮ সালে চরফ্যাসন উপজেলার কর্মরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তফা কামাল জানান, তার কর্মকালীন সময়ে এ মাদ্রাসার কোনে নিয়োগের কার্যক্রম হয়নি। তিনি তার স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি অবহিত হয়ে মহা-পরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করেছেন।
তবে সুপার রুহুল আমিন বলেন, মাদ্রাসার সভাপতির নির্দেশে আমি মাদ্রাসাটির কিছু পুরাতন শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল সহ পত্রিকা সৃজন ও ডিজির প্রতিনিধির পত্র সৃজনের বিষয়টি এড়িয়ে যান।
মামলার বাদী সফিউল্যাহ জানান, তিনি ১৫/০৪/৯৪ইং থেকে কর্মরত আছেন, আরেক বাদী সুলতানা রাজিয়া জানান তিনি ১৫/০৩/২০০৮ থেকে কর্মরত আছেন অথচ এখন তাদেরকে বাদ দিয়ে সুপারের মেয়ে ও ভাগিনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসার জমি দাতা ও অপর মামলার বাদী নুরুল ইসলাম জানান, আমি এ জাল জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে মামলা দায়ের করেছি। উক্ত মামলার কপি জেলা শিক্ষা অফিসারকে দিয়েছি। জেলা শিক্ষা অফিসার মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে কোন এমপিওর আবেদন প্রেরণ না করার নির্দেশ প্রদান করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্র প্রদান করেছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন জানান, হাজারীগঞ্জ মোহাম্মদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক এমপিও ভুক্তির আবেদনকৃত শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া জাল জালিয়াতিভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে তিনটি মামলা হওয়ায় উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিওভূক্তির আবেদন প্রাথমিক ভাবে বাতিল করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button