অন্য পর্যটককে বাঁচাতে সমুদ্রে নেমে নিজেই লাশ হলো মাদরাসাছাত্র

এক পর্যটককে বাঁচাতে সমুদ্রে নেমে নিজেই লাশ হলো মো: তাহসিন (১৬) নামের এক মাদরাসাশিক্ষার্থী।
শুক্রবার কক্সবাজারের সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট সমুদ্রে এ ঘটনা ঘটে। তাহসিন কুমিল্লার দেবীদ্বারের মো: হোসেনের ছেলে। সে কাসেমুর উলুম মাদরাসার ছাত্র।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সমুদ্রে গোসল করার সময় অন্য এক পর্যটককে বাঁচাতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তাহসিন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো: মিজানুজ্জান বলেন, গত ১৩ অক্টোবর তাহসিনসহ তার তিন বন্ধু পরিবারকে না জানিয়েই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যায়। পরের দিন সকাল ৭টার দিকে সমুদ্র গোসলে নামলে তাহসিন খেয়াল করে অন্য একজন পর্যটক আরো দূরে হাত তুলে সাহায্য চাচ্ছেন। তখন উপস্থিত কয়েকজন তৎক্ষণাৎ সেই পর্যটককে বাঁচাতে ছুটে যান। তাদের সাথে সেও যায়। ওই পর্যটককে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। তবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই পর্যকটকে বাঁচাতে গিয়ে তাহসিন সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যায়। সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার চার ঘণ্টা পর সাগর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই আব্দুল আজিজ বলেন, অন্যজনকে বাঁচাতে গিয়ে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে তাহসিন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে সাগরের ভেসে যায়। সি-সেইভ লাইফ গার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচ কর্মীরা দীর্ঘ আট ঘণ্টা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারের সাথে সাথে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সমুদ্রে ভেসে যায় নারায়ণগঞ্জের সদর থেকে আগত রহিম খানের ছেলে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম। মুমূর্ষু অবস্থায় সমুদ্র থেকে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র : ইউএনবি




