slider

হরিরামপুরে অসহায় নারী বেদানা বেহারার মানবেতর জীবনযাপন

জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) : “আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা, ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।”
পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের কালজয়ী এই কবিতাটি মনে পড়ে গেল অসহায় নারী বেদানা বেহারার বাড়িতে গিয়ে। জরাজীর্ণ টিনের একটি ছাপড়া ঘর। ঘরের চালের দুটি টিন ভেঙে পড়ে গেছে। ভেতরে নোংরা আবর্জনায় জরাজীর্ণ। এমনি ঘরে বাস করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ননী বিহারের স্ত্রী বেদানা বেহার (৬৫)। স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসন্তান বেদানা বেহার মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ভিক্ষাবৃত্তিও যেন আর করতে পারছেন অসহায় এই নারী বেদানা বেহার।
সরেজমিনে তার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, ঝুপড়ি একটি ছাপড়া ঘর। ঘরের চালের দুটি টিন ভেঙে পড়ায় রোদ বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করেই বসবাস করেন বেদানা বেহারা। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মারা যান স্বামী ননী বেহারা। সে পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী ছিলেন। তার মৃত্যু আগে বাড়িটিও নাকি সমর নামের এক প্রতিবেশীকে লিখে দেন। ওই বাড়িতেই এখন কোনো রকমে মাথা গুঁজে পড়ে আছেন বেদানা বেহারা। পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিলেও এখনও কোনা টাকা পয়সা পাননি বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশি মুদি দোকানদার মো. আজহার জানান, মহিলা একেবারে অসহায়। যে ঘরে সে থাকে, সেটা মানুষের থাকার মত ঘর নয়। স্বামী মরে গেছে ২ বছর আগে। তার কোনো সন্তানাদিও নাই। মানুষের বাড়ি বাড়ি চেয়ে চিনতে কোনো রকম দিনপাত চালায়। সরকারিভাবে তার একটি ঘর হলে অন্তত থাকার একটা ব্যবস্থা হতো।
পাশের বাড়ির সবুরা বেগম বলেন, “বেদানা ভাঙা ঘরে থাকে। ঘরের বেড়া কোনো মতে থাকলেও উপরের চালের দুইটা টিনই ভাঙ্গা। রাইতে মেঘ (বৃষ্টি) আইলে আমাগেরে বাড়ি আসে। এভাবে একটা মানুষ থাকবার পারে? সরকারিভাবে সাহায্য পাইলে তার খুব উপকার হইব।”
প্রতিবেশি সুশীল জানান, মহিলার কেও নেই। সে মানুষের বাড়ি বাড়ি খায়। আমরাও খেতে দেই। বেচারার বয়স হইছে কি করবে সে? থাকার মতো একটা ঘরও নাই। এখন সরকার থেকে কোনো সাহায্য পেলে হয়তো সে, যে কয়েক দিন বেঁচে থাকে, ভালো ভাবে থাকতে পারত।
এ বিষয়ে গোপিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, “আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবস্থায় ননী বেহারার নামে একটা বয়স্কভাতার কার্ড করে দিয়ে ছিলাম। এছাড়াও যখন যা পেরেছি, আমি সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। তবে ঘরের বিষয়ে আমাকে কেউ কখনও বলেনি। বললে হয়তো চেষ্টা করে দেখতাম।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button