হরিরামপুরে ৩দিন ব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী ও ঘুড্ডি মেলার আয়োজন
জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বাল্লা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক স্থান ঝিটকা পোদ্দার বাড়ি আঙ্গিনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ১২৩ তম জন্মজয়ন্তী ও ২০তম ঘুড্ডি মেলার অায়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২৫ মে বুধবার হতে ২৭ মে শুক্রবার পর্যন্ত ৩দিন ব্যাপী এই নজরুল জন্মজয়ন্তী ও ঘুড্ডি মেলার আয়োজন করেছে স্থানীয় সংগঠন জাতীয় লোক সাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণা কেন্দ্র।
আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা যায়, ২০ বছর পূর্বে এই ঘুড্ডি মেলার আয়োজন করেন স্থানীয় প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাট্যকার ও নির্দেশক, জাতীয় লোক সাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বাবু রঞ্জন সাহা। বছর কয়েক আগে তাঁর মৃত্যতে গ্রামীণ জনপদের এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি অনেকটাই ঝিমিয়ে পরে। কিন্তু চলতি বছরে স্থানীয় কিছু তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বয়ে মেলাটি পুণরায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করেন সংগঠনটির সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ রইস উদ্দিন।
নজরুল জন্মজয়ন্তী ও ঘুড্ডি মেলার অনুষ্ঠানমালায় প্রথম দিনে সকাল আটটায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন। এরপর সকাল ১০টায় শিশুকিশোরদের নজরুল ও ঘুড্ডি বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিকেল ৩টায় ঘুড্ডি উড়ানো প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হবে।
এরপর সন্ধ্যা ৭টা হতে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নজরুল নৃত্য প্রতিযোগিতা। এছাড়াও রয়েছে নজরুল সম্পর্কিত আলোচনা সভা, লেটো গান (যাত্রাপালা রহিম রূপবান)। মেলার ৩য় দিন সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণীসহ তরুণ কণ্ঠশিল্পী ফকির সাহেবের গানের মধ্য দিয়ে রয়েছে মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠান।
এ মেলা সম্পর্কে উদযাপন পর্যদের সদস্য সচিব মামুন চৌধুরী জানান, “এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি প্রাণের মেলা ছিল এই নজরুল জন্মজয়ন্তী ও ঘুড্ডি মেলা। এটিকে পুণরায় জাগিয়ে তুলতে কিছু তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে আমরা আবার একযোগে কাজ করছি।”
উদযাপন পর্যদের আহ্বায়ক সৈয়দ রইস উদ্দিন বলেন, এই মেলার জনক এই অঞ্চলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাট্যকার ও জাতীয় লোক সাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বাবু রঞ্জন সাহা। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর এই প্রতিষ্ঠান ও মেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকল শ্রেণি পেশার মানুষদের সহযোগিতায় এই আয়োজন। এখানে জেলা ও উপজেলার সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এটি যেন চলমান রাখতে পারি, সে জন্য আমি সকলের সহযোগিতা করছি।”
যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সুস্থধারার বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান।




