আজ রানা প্লাজা ধ্বসের ৯ বছর

সোহেল রানা, সাভার (ঢাকা)প্রতিনিধি : আজ রানা প্লাজা ধ্বসের ৯ বছর। ২০১৩ সালের এই দিনে বহুতল ভবন ধ্বসে পড়ে ৯ তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা। সেসময় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়, আহত হয় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক। ধ্বংসস্তুপের নিচে পড়ে গুরুতর ভাবে আহত ও পঙ্গু হওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ হন অনেকেই।
হতাহত এসব শ্রমিকদের স্মরনে শনিবার সন্ধ্যায় ধ্বসে পড়া ভবনটির সামনে মোমবাতি প্রজ্জলন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন নামে একটি শ্রমিক সংগঠন। এসময় সংগঠনের ব্যানারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৯ বছর পুর্তিতে ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষনা, শ্রমিক হত্যার বিচার, হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতি পূরণ, সু চিকিৎসা, পুর্ণবাসন, নিরাপদ কর্মস্থল তৈরী, ২৪ এপ্রিল’কে শোক দিবস ঘোষনা, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং রানাসহ দায়ী ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন উপস্থিত নের্তৃবৃন্দ।

এর আগে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে রানা প্লাজার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় নেতা- ইসলাম হোসেন ঠান্ডু, পারভীন আক্তার, শফিউল আলম, খাদিজা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, নুরুজ্জামাল, ইব্রাহিম, এস.কে শুভ।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৯ বছরেও শ্রমিক ও পরিবারকে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয় নাই। অবিলম্বে শ্রমিক হত্যার বিচার করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষনা, হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতি পূরণ, সু চিকিৎসা ও পুর্ণবাসন করতে হবে। এছাড়া ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষনার পাশাপাশি ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবনে ফাটল দেখা দেয়। এঘটনায় সেদিন ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক তৈরি কারখানার কর্মীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কোন ধরনের পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই পরের দিন ফাটল ধরা ভবনে কয়েক হাজার শ্রমিককে জোরপূর্বক কাজে যোগদান করানো হয়। সকাল পৌনে ৯ টার দিকে ৯ তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ভবনটি ধ্বসে পড়লে পাঁচটি পোশাক কারখানার ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এঘটনায় আহত হয় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক। ধ্বংসস্তুপের নিচে পড়ে গুরুতরভাবে আহত ও পঙ্গু হওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ হন অনেকেই।
ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা কেউ কেউ নতুন জীবনে ফিরে আসলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনও অসহায় জীবনযাপন করছে। দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকেরা কোমর, মাথা, হাত-পা, পিঠে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। টাকার অভাবে সুষ্ঠ চিকিৎসাও করাতে পারছেনা।




