slider

নিয়ামতপুরে কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষতি

নিয়ামতপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধি : কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টিতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ফসলের ক্ষেত। মাত্র কয়েকদিন আগেই মাঠে মাঠে সোনালী ধানের শীর্ষ বাতাশে দোল খাচ্ছিল। সেই দৃশ্য দেখে কৃষকের মন নেচে উঠেছিলো। কেউ কেউ আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছিলেন। অন্যরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিল ধান কেটে গোলায় তোলার। ঠিক সেই মূহুর্তে এসে বাঁধসাদলো কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টি। কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এক রাতেই মাটিতে মিশে গেলো। হতাশায় নিমজ্জিত এখন কৃষক। ধান কেটে ঘরে তোলার মুখে ফসলের এই ক্ষতিতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৩ টার দিকে সেহেরি শেষ সময়ে প্রায় আধঘণ্টার ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ড-ভণ্ড হয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। এতে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে বোরো ধানের ক্ষেতসহ অন্যান্য সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৫৫০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জমির ফসলও ভালো দেখা দিয়েছিল। ফসলের ক্ষেত দেখে কৃষকের মন ভরে গিয়েছিল।
নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষকেরা বলেন, গত বছর বোরো ও আমন ধানের দাম ভালো পাওয়ায়। এবার ধার দেনা করে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। কিন্তু ঝড় আর বৃষ্টিতে এবারও ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ঋণ শোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, কিছু কৃষকেরা। তারা আরোও বলেন, প্রতি বিঘায় ২০/২৩ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ঝড় বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় এখন বিঘা প্রতি ১৭/১৮ মন ধান পাবো কি না- সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমীর আব্দুল্লাহ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, আবহাওয়া ভাল হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন। উপজেলায় আগাম জাতের ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে, বাজারে দামও পাচ্ছেন ভালো কৃষকেরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button