slider

মানিকগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ শহরের উত্তর সেওতা এলাকায় ৬তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সানজিদা আক্তার রুপা (২৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৯টার দিকে ওই লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী ওষুধ ব্যবসায়ী সহিদুর রহমান (৩৬) পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি- সানজিদাকে হত্যা করে স্বামী পালিয়েছেন। বিয়ের পর থেকে স্বামী তাকে যৌতুকের জন্য মারধর করতো। নিহতের তিন বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব, ডিবি সদস্যরা।
এদিকে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানালেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী আত্মহত্যা করতে পারে। তবে ময়না তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
নিহত নারী টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার মাহমুদনগন গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন এর একমাত্র কন্যা। স্বামী সহিদুর রহমানের বাড়ি একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী বনগ্রাম এলাকায়। তিনি জহিরুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম সুমন জানায়, তার বোনের মৃত্যুর খবরটি বোন জামাইয়ের ভাই নাসির উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান। তিনি অভিযোগ করেন- তার বোনকে হত্যার পর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে। বোন জামাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রমা হাসপাতালের নিচে একটি ওষুধের দোকান করতো। পরিবার নিয়ে বোন জামাই ওই বাসায় ভাড়া থাকতো।
এদিকে নিহতের একমাত্র ভাই মনিরুল ইসলাম সুমন আরো জানান, তার বোন ও বোন জামাইয়ের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে তার বোনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। পারিবারিক ও গ্রাম্যভাবে সালিশও হয়েছে একাধিকবার।
প্রতিবেশী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরিজীবী আবু তাহেরের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, নিহতের স্বামী ঘটনার পর থেকে লাশ নামিয়ে দৌড়ে চলে যায়। তাদের একমাত্র শিশু সন্তান লাবিবকে একা বাসায় রেখে ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানালেন, ঘটনাটি বিকাল পাঁচটার আগে পরে যে কোন সময় ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের স্বামী সহিদ পলাতক রয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে।
লাশের ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করবে এমনটি জানালেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button