slider

সাভারে ফুটপাত দখল নিতে কাউন্সিলর ! সংঘর্ষে আহত ৫

সাভার প্রতিনিধি : সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উপজেলা বাসষ্ট্যান্ডে মহাড়সক ও সওজের জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ফুটপাতের দখল নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর ও বর্তমান কাউন্সিলরের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে সাভার পৌরসভার সামনে অবস্থিত উপজেলা বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ সাভার মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-আরিচা মহসড়কের উপজেলা বাসষ্ট্যান্ডে অবৈধভাবে মহাসড়ক ও সওজের জায়গায় স্থায়ী বাজার বসিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিলো সাভার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আয়নাল হক গেদু, আলমগীর হোসেন মাখন ও গোসত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হক। মহাসড়ক ও ফুটপাতে বাজার বসানোয় জনসাধারনের চলাচল করতে দূর্ভোগ পোহাতে হতো। তাই বুধবার দুপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুজ্জামান খাঁন মুরাদের সহযোগীতায় ফুতপাত উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় প্রায় শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। অন্যদিকে অভিযান শেষে ফুটপাতের পুনঃদখল নিয়ে সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরের লোকজনেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়।
বিষয়টি স্থানীয়রা থানায় ফোন করে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে বর্তমানে দুই পক্ষই লোকজন জড়ো করে রাখায় সাধারন ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছে।
হামলায় আহত তরমুজ ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, উচ্ছেদ অভিযান শেষে তরমুজগুলো একজায়গায় করছিলাম। এসময় কাউন্সিলর আনিসুজ্জামান খান মুরাদের নের্তৃত্বে রুবেল হাসান, সোহাগ, বাবুসহ অজ্ঞাত পরিচয় ১০-১২ জন লোক এসে আমাকে এলোপাথারি মারধর করে কান ফাটিয়ে দেয়। তারা আমার ক্যাশে থাকা তরমুজ বিক্রীর প্রায় ১৭ হাজার ৮’শত টাকা নিয়ে যায় এবং ডিজিটাল মাপযন্ত্রটি ভেঙ্গে ফেলে। এসময় অন্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে মারধর করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অপর পক্ষের অভিযোগের বাদী রুবেল হাসান বলেন, জনগনের চলাচলের স্বার্থে বর্তমান কাউন্সিলরের সাথে আমরা ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগীতা করছিলাম। অভিযান শেষে হঠাৎ সাবেক কাউন্সিললের ছেলে রাজীব, সুমন, সজীব, তানজিল ও আলীসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন লোক পিস্তল, রামদা, চাপাটি, লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এসময় আমি সোহাগ ও বাবুকে তারা এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আমাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলের ছেলে মোহাম্মদ রাজীব বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমি ভাড়া নিয়ে বাজার পরিচালনা করে আসছি। এখন বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুজ্জামান খান মুরাদ সেই বাজার দখলের পায়তারা করছে। যে কারনে সে লোকজন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর করে তাদেরকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এসময় তার লোকজন বাজারের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর ও লুটপাট করে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর আনিসুজ্জমান খাঁন মুরাদ বলেন, অবৈধভাবে ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে বাজার বসিয়ে চাঁদা আদায় করায় জনগনের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই জনস্বার্থে রাস্তা পরিস্কার করতে ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদাবাজরা আমার সামনেই আমার লোকজনকে মারধর করেছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, জনগনের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ফুটপাতে কোন দোকানপাট বসানো যাবেনা। যারাই ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button