
বিউটি বেগম। গাইবান্ধা সদর উপজেলার মেয়ে। ২০০৮ সালে বিউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন। কিন্তু তাকে নিয়োগ না দিয়ে পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারী নাজমা সুলতানাকে নিয়োগ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ ঘটনায় বিউটি দায়ের করেন মামলা। দীর্ঘ আইনি লড়াই। অপেক্ষার প্রহর কাটে। অবশেষে ১২ বছর আইনি লড়াই শেষে গত ১০ই ডিসেম্বর বিউটি নিয়োগ পান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে। শুধু তাই নয় তার নিয়োগ কার্যকর হবে ২০১৭ সালের ৩রা আগস্ট থেকে।
এখন থেকে তিনি সরকার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রদান করবেন।
বিউটির আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিউটি বেগম। গতকাল আপিল বিভাগে হাজির হয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের কথা লিখিতভাবে জানান তৎকালীন মহাপরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা। এরপর বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি করেন।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পর একজন বিচারপ্রার্থী আদালতের মাধ্যমে তার অধিকার ফিরে পেলো। ২০০৮ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিউটি বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন। কিন্তু তাকে নিয়োগ না দিয়ে পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারী নাজমা সুলতানাকে নিয়োগ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিউটি বেগম নিয়োগ না পেয়ে গাইবান্ধার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলার শুনানি নিয়ে আদালত পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী বিউটি বেগমকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট নি¤œ আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। ২০১৭ সালের ৩রা আগস্ট আপিল বিভাগ ১৫ দিনের মধ্যে বিউটি বেগমকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন। ওই আদেশের পরেও বিউটি বেগম নিয়োগ পায় না। পরে তিনি আদালত অবমাননার আবেদন করেন। আদালত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গত ২রা মার্চ আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলেরও জবাব দেন না বিবাদীরা। গত ৭ই ডিসেম্বর আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ পাঁচজনকে তলব করেন আপিল বিভাগ। গতকাল আপিল বিভাগে হাজির হয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের (বিউটি বেগমের নিয়োগের তথ্য) কথা লিখিতভাবে জানান তৎকালীন মহাপরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা। অন্য চারজন হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. রমজান আলী, গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম, গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুস সালাম ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুমুল ইসলাম। এ পাঁচজন ছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম আদালতে উপস্থিত হন। শুরুতেই আদালতের আদেশ যথাযথভাবে পালন না করায় তারা নিঃশর্ত ক্ষমা চান। আপিল বিভাগ তাদের ক্ষমা মঞ্জুর করে আদালত অবমাননা থেকে অব্যাহতি দেন। এবং আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বে তিন বিচারপতি অবমাননার রুল শুনানি করেন। এরপর বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি করেন। আদালতে বিউটি বেগমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শফিক মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।




