sliderস্থানিয়

শিবগন্জে অসুস্থ পিতাকে চিকিৎসা খরচ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে অসুস্থ পিতাকে চিকিৎসা খরচ ও দেখা শুনা না করে বরং পিতাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের কর্ণখালী মিজাপুর গ্রামের।

শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী পিতা মোহা: আফজার হোসেন ও পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তার একমাত্র ছেলে মো: আসাদ জামানের বিরুদ্ধে। লিখিত বক্তব্যে পিতা আফজাল বিশ্বাস বলেন, গত ১৮ মাস পূর্বে ক্যান্সারে ও আমার স্ত্রী রুমালী বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আমার দুই জামাই প্রায় ৫ লাখ টাকা দিয়ে আমার চিকিৎসা করাই । আমার অপারেশনের সময় আমার স্ত্রী আমার ছেলের বাসায় গেলে ছেলে তার স্ত্রী মানসিক নির্যাতন শুরু করে। আমার একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমাদের সাথে দূব্যবহার শুরু করায় সম্পকে টানাপোড়ন হয়। তিনি আরও বলেন, ৬ মাস আগে দ্বিতীয়বার ক্যান্সারের অপারেশন করাতে টাকা না দিয়ে বরং জমি বিক্রী করতে বাধা দেয় এবং নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দিযে আমাকে মানসিক রোগী হিসাবে চিকিৎসকের নিকট হতে সার্টিফিকেট সাব-রেজিস্টারসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রদান করে আমার জমি বিক্রী বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু আমি স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিকে আপনার সাথে কথা বলছি। আমি ক্যান্সার রোগী। কিন্তু মানসিকভাবে সুস্থ আছি। আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে ও আমার স্ত্রী এবং দুই জামাইকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছে। ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিরুপায় হয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আইনের আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ছেলের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে মা রুমালী বেগম, বোন রেহেনা পারভিন পপি ও বোন মাহমুদা খাতুন লিপি।

তবে সনদে স্বাক্ষর করা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, তিনি যখন এসেছিলেন, তখন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন মর্মে সনদ দেয়া হয়েছিল। এখন যদি সুস্থ হন, তাহলে সার্টিফাই কপি দেয়া হবে। অন্যদিকে তার ছেলে আসাদ জামান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাবাকে আমি মানসিক রোগী বানায়নি। ওই সময় চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা করে যোক্তিক একটি সনদ দিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন আমার দুই বোন ও দুই ভগ্নিপতি যোগসাজস করে সাম্প্রতিক কালে আমাকে বঞ্চিত করে ১৫বিঘা জমি আমার পিতার নিকট হতে দুইবোন রেজিস্ট্রিা করে নিয়েছে, যার বিভিন্ন ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে। বাকী যা সম্পত্তি আছে সেটুকু নেয়ার জন্য তারা বিভিন্ন কৌশল করছে । আমার পিতার সেবা ও দেখাশুনা করার জন্য প্রস্তুত আছি। আমি কোন ষড়যন্ত্র করছি না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button