রাজারহাট উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে বিজয় উদযাপন

মোঃশরিফুল ইসলাম সজীব রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। সারাদেশের মানুষ আজ আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে দিবসটি পালন করছে। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় তাদেরকে স্মরণ করা হয়েছে ।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তবে কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিজয় দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না ।
দিবসটি উপলক্ষে রাজারহাট উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলন ও শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসলিমা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দী বাপ্পি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুনুর মোঃ আক্তারুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকলিমা বেগম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান,থানা অফিসার ইনচার্জ রাজু সরকার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজব আলী আরো অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা বিন্দু, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব রাজারহাট উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আশিকুর রহমান লিমন সহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ রাজারহাট উপজেলা শাখার, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ,বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের জন্যপ্রতি সন্মানী স্বরুপ ৩০০ টাকা ও একটি কম্বল বিতরণ করবার জন্য স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগনের হাতে তুলে দেন রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসলিমা । কোভিড-১৯ এর কারনে এবারে ৪৯ তম মহান বিজয় দিবস সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সীমিত পরিসরে পালন করার নির্দেশনা থাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের জন্য তালিকা প্রস্তুতপূর্বক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে স্বাস্হ্য বিধি মেনে ৭ ইউপি চেয়ারম্যানগণ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের এসব উপহার সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দিবেন।
স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামদীপ্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল, সেখানেও বাঙালিদের ওপর নেমে এসেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ, নির্যাতন। প্রথম আঘাত এসেছিল মাতৃভাষার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে বাংলা মায়ের সন্তানেরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন বিশ্বে। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কালক্রমে তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার সামনে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে শত্রুদের মোকাবিলার জন্য যার কাছে যা আছে তা-ই নিয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। তিনি বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরস্ত্র, নিরপরাধ ঘুমন্ত বাঙালির ওপর। বর্বর হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল তারা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে সেই রাতেই তারা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে। তবে তার আগেই তিনি বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বার্তা দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণায় তিনি বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশের বীর সন্তানেরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ সংগ্রামে আত্মনিবেদন করেন। দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রামের পর ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও সহায়-সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে বাঙালি। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে রমনা রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেছিল হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। লাল-সবুজ পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বিজয়ী বাঙালিরা। সেই পতাকা উঁচিয়ে চলছে প্রগতির পথে বাঙালির অভিযাত্রা।




