জাতীয়শিরোনাম

৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল : বিরোধীদের দাবি অগ্রাহ্য

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৮ই নভেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে কমিশনের একটি সভার পর নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা রেডিও টিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করবেন।
বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোল বলছেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনের শিডিউল পেছানোর যে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন তা কার্যত অগ্রাহ্য করলো।
শনিবার কমিশনের কাছে এক চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানায়।
তাদের যুক্তি ছিল – যেহেতু সরকারের সাথে তাদের সংলাপ শেষ হয়নি, ফলে তফসিল দিলে সেই আলোচনা গুরুত্ব হারাবে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা মওদুদ আহমেদ হতাশা প্রকাশ করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার এই সিদ্ধান্ত সরকারের সাথে তাদের সংলাপকে ‘গুরুত্বহীন’ করে দেবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অবশ্য তফসিল পেছানোর সেই দাবির কড়া সমালোচনা করে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, তফসিল পেছালে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটি হুমকিতে পড়তে পারে।
দলের এক সিনিয়র নেতা বিবিসিকে বলেছেন, বিরোধীদের এই দাবির পেছনে কোন ‘কূটকৌশল’ থাকতে পারে।
সংলাপের জন্য নতুন চিঠি
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড: কামাল হোসেন আজ (রোববার) প্রথম সংলাপের ভিত্তিতে এখন ছোট পরিসরে আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে তাদের সাত দফা দাবির সাংবিধানিক এবং আইনগত দিক বিশ্লেষণের জন্য উভয়পক্ষের বিশেষজ্ঞসহ সীমিত পরিসরে আলোচনার কথা বলা হয়েছে।
নতুন দফা সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, বিরোধী জোটের সাথে আরও আলোচনা করার ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি নেই, তবে তফসিল পেছানোর কোনো প্রশ্ন নেই।
একজন বিশ্লেষক বলছেন, তফসিল ঘোষণার পর আলোচনা করে কোন ফলাফল আসবে না। অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বিবিসিকে বলেন,”ঐক্যফ্রন্ট আগের সংলাপে দাবিগুলো দিয়েছে। এখন তারা আলোচনায় রূপরেখা দেবে। তফসিল ঘোষণা করলে তখন অন্যরকম আবহাওয়া তৈরি হবে। আলোচনার তাৎপর্য থাকবে না।”
বিবিসি বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button