১২ দিন লড়াই করে হেরে গেলেন এসিডে দগ্ধ নারী

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১২ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন দগ্ধ পোশাক শ্রমিক সাথী আক্তার (১৮)। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। অপরদিকে সাথী আক্তারকে এসিড নিক্ষেপ করার দায়ে মানিকগঞ্জ র্যাব-৪ তার সাবেক স্বামী নাঈম হোসেনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। সাটুরিয়া থানার ওসি আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার ফেরাজীপাড়া-কাটাখালী এলাকার নিজ বাড়িতে মা এবং ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন সাথী আক্তার। গত ২৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে সাথীর সাবেক স্বামী নাঈম হোসেন ভাঙা জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে৷ এতে করে সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায় সাথী আক্তারের হাত-মুখ। এরপর সাথী আক্তারকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সাথী আক্তারকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। বার্ন ইউনিটে ১২ দিন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে হেরে যান সাথী আক্তার।
সাথী আক্তারের ভাই সোহেল হোসেন জানান, নাঈমের সঙ্গে সাথীর দুই বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন করতে থাকে এবং বিভিন্ন সময় যৌতুক চেয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গত ২৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে সাথীর সাবেক স্বামী নাঈম হোসেন ভাঙা জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে৷ এতে করে সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায় সাথী আক্তারের হাত-মুখ।
সাথীর বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কাজী একেএম রাসেল বলেন, দাহ্য পদার্থে সাথীর হাত মুখ ঝলসে গেছে। তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।
সাটুরিয়া থানার ওসি আশরাফুল আলম জানান, ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাথীর শরীরে এসিড ছুড়ে মারে নাঈম। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় এসিড নিক্ষেপের একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গার্মেন্টস কর্মী সাথী মারা যাওয়ায় এখন এ মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হবে।




