পতাকা ক্যারিয়ার

১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ৭- ‘প্রতিটি দিন নতুনভাবে শুরু করুন’

‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের ছোট্ট অনুশীলন’ বইটি হাতে অনুবাদক বুশরা আমিন তুবা। ছবি: নূর, প্রিয়.কম।

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা সপ্তম বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।

দিনের শুরুটাই হোক শুভ্রতায় ভরা, প্রতীকী ছবি।

সপ্তম অনুশীলন: প্রতিটি দিন নতুনভাবে শুরু করুন

দিনের শুরুটাই যদি আপনি খারাপভাবে করেন তবে আপনার ব্যর্থতা অনিবার্য। দিনের শুরু আপনি কীভাবে করেন সেটি আপনার সফলতা নিশ্চিত করতে খুব উপকারী। আমরা অনেকেই এই টার্মটা হয়তো শুনেছি যে, ‘ভুল পাশ ফিরে ঘুম থেকে উঠলে অমঙ্গল হয়’। এটি শুনতে হয়তো খুব অবাক লাগছে কিন্তু একটু অন্যভাবে দেখলে এটি কিন্তু একশভাগ সত্য!

যখনই আপনি জীবনে নতুন কোনো প্রজেক্টে হাত দেন, সফল হওয়ার চান্স যেমন থাকে তেমনি ব্যর্থ হওয়ার চান্সও থাকে। স্বয়ং বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, ‘ভালো কিছু করার অর্থ হলো তুমি সফলতার অর্ধেক পথে পৌঁছেছো’। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, একটি ভালো গাড়িকে একটু জোরে ধাক্কা দেওয়া যেন ভালোমতো চলতে পারে।

ঠিক এমনভাবেই দিনের শুরুটা ভালোমতো করতে হবে। আপনি যেকোনো অজুহাত দেখাতে পারেন এক্ষেত্রে। কিন্তু একটা ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন সেটি যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়। দিনের শুরু যদি মন্দভাবে হয় তাহলে পুরোটা দিনই আপনার খারাপ কাটবে, সেই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কেন শুধুশুধু সকালটা খারাপ করে সারাদিন নষ্ট করবেন?

এই ব্যাপারটা খাটে ছুটির দিনের সকালের জন্যও। আপনিই ঠিক করুন, ছুটির দিন দেরি করে ঘুম থেকে উঠে দিনটা মাটি করবেন নাকি নিজের জন্য খানিকটা সময় বের করে আরাম করবেন?

সকালে ইয়োগা বা ধ্যানের অভ্যাস করে ঝরঝরে অনুভব করুন, প্রতীকী ছবি

সকালের জন্য কিছু অভ্যাস রপ্ত করুন

* প্রতিদিন যে সময়ে ওঠেন তার থেকে অন্তত ত্রিশ মিনিট আগে ঘুম থেকে জাগুন। তাহলে খুব ধীরস্থিরভাবে দিন শুরু করতে পারবেন আপনি। ঘুম থেকে উঠেই হালকা ইয়োগা কিংবা ধ্যানে মগ্ন থাকুন।

* সকালের নাস্তার জন্য কিছু সময় ব্যয় করুন। রাতে যতটুকু সময় আপনি ঘুমান সেই সময়ে খাবারের খুব সংকট হয়। সেজন্য স্বাস্থ্যকর নাস্তা করা খুব জরুরি। যদি আপনি যৌথ পরিবারে থাকেন, তবে সবাই একসাথে হাসিমুখে নাস্তা করুন। ইতিবাচক মনোভাব সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিন।

* কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বাস, সাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে যেভাবেই যান না কেন, সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি নির্ভার ও চিন্তামুক্ত হয়ে যাবেন। বই পড়তে পড়তে কিংবা গান শুনতে শুনতে যান। ভালো লাগবে।

* কর্মক্ষেত্রে সবার আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। সবাইকে হাসিমুখে অভিবাদন জানান। সারাদিন আপনি কি কি কাজ করবেন, সেটির একটি তালিকা তৈরি করুন। এক কাপ চা কিংবা কফি খেতে ভুলবেন না।

* পরিশেষে, আপনি যদি ‘সকাল বেলার পাখি’ না হয়ে থাকেন, তবে নিজেকে একটু অতিরিক্ত সময় দিন। সর্বদা ইতিবাচক ব্যবহার করুন এবং আনন্দিত থাকার চেষ্টা করুন পরিবার ও সহকর্মীর সঙ্গে।

সুত্র: প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button