পতাকা ক্যারিয়ার

১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ২১- ‘আরো ভালোবাসুন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ২১ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।
অনুশীলন ২১- ‘আরো ভালোবাসুন’
ভালোবাসা একটি অপূর্ব অনুভূতি। একটি বিষয় কিন্তু স্পষ্ট, সফল মানুষেরা ইতিবাচক ভালোবাসার শক্তিতেই সফলতা অর্জন করেছেন।
মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় আমি দুই ধরনের ভালোবাসার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে দেখেছি। সেগুলো হলো ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসা এবং স্থায়ী ভালোবাসা।

স্থায়ী ভালোবাসা আপনার বাবা-মা, সঙ্গী, সহকর্মী কিংবা বন্ধুর সঙ্গে হতে পারে। প্রতীকী ছবি।

ক্ষণস্থায়ী ভালবাসা মোহ, প্রয়োজন, আবেগ, যৌনতা এমনকি কাউকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হতে পারে। মাঝে মাঝেই এমন হতে পারে যে কোনো বস্তু কিংবা কোনো মানুষকে দেখে তাদের আপন করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ধরা দিতে পারে। এক্ষেত্রে অনুভূতি খুব প্রখর হয় কিন্তু খুব বেশিদিন স্থায়ী করে না। হাজার চেষ্টা করলেও আপনি এমন অনুভূতিকে ধরে রাখতে পারবেন না কারণ আপনি কখনোই মন থেকে চাননি সেগুলোকে। নিজের ভেতরের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য, আত্মবিশ্বাস ও নির্ভরতা বাড়ানোর জন্য আপনি হয়তো ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসার আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এ সকল মুহূর্তগুলো আপনাকে কিছু সময়ের জন্য হয়তো ‘সফল’ করে তোলে কিন্তু সত্যিকারের সফলতা এর মধ্যে নিহিত নেই।
স্থায়ী ভালোবাসা আপাতদৃষ্টিতে হয়তো চাকচিক্যময় নয় কিন্তু এর ভেতরে পরম নির্ভরতা মেশানো আছে। জীবনে সফলতা আনতে হলে এটিই জরুরি আপনার জন্য। অর্থপূর্ণ সম্পর্কে এটিই অনুভব এবং অভিজ্ঞতা করার বিষয়। এমন স্থায়ী ভালোবাসা আপনার বাবা-মা, সঙ্গী, সহকর্মী কিংবা বন্ধুর সঙ্গে হতে পারে। এমন সম্পর্ক কঠিন হতে পারে কিন্তু একবার গঠিত হয়ে গেলে সেটি সারা জীবনের জন্য সঞ্চয় হিসেবে কাজ করবে।
কেমন ভালোবাসার উপর আপনি আপনার মূল্যবান সময় ও শক্তি খরচ করছেন?
নিজেকে ভালোবাসুন
সফলতার গোপন মন্ত্র হলো নিজেকে ভালোবাসা দিয়ে আবৃত করে রাখা। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দিয়ে আমি একটা ব্যাপার আবিষ্কার করেছি। সেটি হলো, আমরা খুব সহজেই অপরকে ভালোবেসে ফেলি কিন্তু নিজেকে ভালোবাসতে আমাদের খুব অনীহা! আপনি নিশ্চয়ই এ মন্তব্যগুলো শুনে থাকবেন-
* এ সম্পর্কে অবস্থান করার জন্য আমি নিজেকে ঘৃণা করি।
* ভালো বেতনের চাকরি না পাওয়াতে আমি খুব রাগান্বিত নিজের ওপর।
* বাবা-মায়ের সঙ্গে সর্বদা খারাপ ব্যবহার করার জন্য আমি খুব লজ্জিত।
* আমার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, এজন্যে আমি খুব ক্ষুব্ধ।
আমরা খুব সহজেই অপরকে ভালোবেসে ফেলি কিন্তু নিজেকে ভালোবাসতে আমাদের খুব অনীহা! তাই নিজেকে ভালোবাসুন। প্রতীকী ছবি।

নিজেকে ভালোবাসার সঙ্গে বোঝাপড়া, গ্রহণযোগ্যতা, ক্ষমা ও শান্তি জড়িত।
নিজের সঙ্গে সুখকর হতে হলে আপনার যা যা দরকার:
* আমরা কেউই সম্পূর্ণ নই এবং শুধু আপনিই একা নন যার ভুল, দুর্বলতা এবং সমস্যা আছে।
* আপনি যেমন, তেমনভাবেই নিজেকে গ্রহণ করুন।
* নিজেকে ক্ষমা করুন এবং দোষারোপ করা বন্ধ করুন।
ভালোবাসার লক্ষ্য পরিবর্তন করুন
আজ থেকে ক্ষণস্থায়ী ভালোবাসার সকল মোহ থেকে বের হয়ে স্থায়ী ভালোবাসার মায়াতে অবস্থান করা শুরু করুন। করতে পারবেন এমন? সৎ হোন এবং নিজের জীবনের দিকে তাকান। আপনি কি প্রতিনিয়ত নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে আছেন?
মোহমুগ্ধ ভালোবাসা থেকে দূরে গিয়ে নিজেকে স্থায়ী ভালোবাসা দেওয়ার চেষ্টা করুন। কোনো শূন্যস্থান রাখার প্রয়োজন নেই। যে সম্পর্কগুলো আপনার জীবনে দামী, সেগুলোতে সময় ও ভালোবাসা বিনিয়োগ করুন। আপনি চাইলেই এটি খুব সহজ কাজ। আপনার জীবনে ভালোবাসার সুযোগ অফুরন্ত, শুধুই সুযোগ ও সময়ের অপেক্ষা।
প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button