পতাকা ক্যারিয়ার

১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ২০- ‘লক্ষ্যে অটুট থাকুন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ২০ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।
অনুশীলন ২০- ‘লক্ষ্যে অটুট থাকুন’
জীবনে সফল হতে হলে একাগ্র মনোযোগ ও শক্তির দরকার আছে। আপনি যা-ই অর্জন করতে যান না কেন সেটা পৃথিবী হোক আর আপনার অ্যাপার্ট্মেন্ট, এটি জরুরি। পৃথিবীর সকল সফলতার গল্পের পেছনেই রয়েছে কোনো না কোনো মানুষের নিগূঢ় লক্ষ্য এবং আত্মবিশ্বাস।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্যে অটুট থাকুন। প্রতীকী ছবি।

জে কে রাওলিং সারাদিন লিখে লিখেই কাটাতেন, প্রচণ্ড অর্থাভাব এবং দারিদ্র্য থাকা সত্ত্বেও। তার এ ছোট্ট প্রচেষ্টাই হ্যারি পটারকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করিয়েছে এবং তার দ্বারপ্রান্তে সম্পদ এবং সফলতা এনেছে। মো ফারাহ এবং স্টিভ জবসের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। তারা প্রত্যেকেই সফল হতে চেয়েছেন কিন্তু একাধিক লক্ষ্য ছিল না তাদের। তারা অ্যাপলে কাজ করতে করতে অন্য আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেননি। এগুলো সবই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকার ফল। জন ডি রকফেলার এ ব্যাপারে বলেন, জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে লক্ষ্য থাকাটা খুব জরুরি।
দুর্ভাগ্যবশতঃ জীবনের একটা চিরাচরিত অভ্যাস হলো আমাদের উপর সব ধরনের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ভার ফেলে দেওয়া এবং মাল্টি-টাস্কিং এ আমাদের অভ্যস্ত করে ফেলা। হাজারো ঝামেলার পরেও আপনি ইচ্ছা করলেই নিজ লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হতে পারেন। সফলতার একমাত্র পন্থা হলো প্রতিটি কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। তাহলেই সফল হওয়া থেকে কেউ ঠেকাতে পারবে না আপনাকে।
একবারে একটি কাজই করুন
একসাথে হাজারো কাজে নিবিষ্ট না হয়ে একটি কাজই করুন এবং সেটি মন দিয়ে করুন। ই-মেইল লেখা হোক, বাচ্চার সাথে খেলা হোক কিংবা ধরুন আপনি ধ্যান করছেন, যা-ই করেন না কেন সম্পূর্ণ একাগ্রতা নিয়ে করুন। দশ মিনিটের কাজও শতকরা একশভাগ একাগ্রতা নিয়ে করুন। আমাদের এ প্রজন্মের সমস্যাই হলো এটা, একই সময়ে একাধিক কাজে হাত দেওয়া।
হাজারো কাজের দিকে মন না দিয়ে একটি কাজেই মনোনিবেশ করুন। প্রতীকী ছবি।

আমাদের সন্তানেরা মনে করে যে তারা একসাথে অনেক কাজ করতে সিদ্ধহস্ত। আমার পুত্র নিজেই হোমওয়ার্ক করতে করতে গান শোনে, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের সাথে কথাও বলে। আপনি নিজে নিজেকে দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করুন। যখন আপনাকে কেউ ডাকবে, তখন হাতের কাজ একটু বন্ধ রেখে তার সাথে মন দিয়ে কথা বলুন। ফোনে কথা বলতে বলতে কম্পিউটারে কাজ করা, কিছু লেখা, টিভি দেখা ও গাড়ি চালানো- এসব অভ্যাস বাদ দিন।
অন্য মানুষের অনুরোধ আপাতত জমানো থাক
পৃথিবীর সকল মানুষের কাছেই আপনি সমানভাবে ভালো হতে পারবেন না। প্রত্যেক মানুষের প্রয়োজন এবং অনুরোধ আপনার একার পূরণ করার কোনো দরকার নেই। ভদ্রভাবে, শান্তভাবে এবং কৌশলে এড়ানোর চেষ্টা করুন। অবশ্যই আপনি অন্যদের সাহায্য করবেন। পরিবারের সদস্যদের, বন্ধুদের, সহকর্মীদের এবং প্রতিবেশীদের সাহায্য করবেন। কিন্তু আপনাকে সমতা বজায় রাখা শিখতে হবে। আপনাকে জানতে হবে যে কখন আপনি গ্রহণ করবেন এবং কখন বর্জন করবেন। এটা কি আপনার জন্য খুব কঠিন হবে? আপনার কি ‘না’ বলতে খুব কষ্ট হয়? মানুষের সঙ্গে সৎ হওয়ার চেষ্টা করুন এবং তাদের জানান যে আপনি কত ব্যস্ত! আপনি ভালোমতো বোঝাতে পারলে মানুষ ঠিকই বুঝবে।
প্রিয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button