১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ১৯
‘বাস্তব জগতে বসবাস করুন’

বুশরা আমিন তুবা
ফিচার লেখক

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ১৯ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।

অনুশীলন ১৯- ‘বাস্তব জগতে বসবাস করুন’
অনলাইনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে মানসিক অসুস্থতা হতে পারে। ‘মিরর’ নিউজপেপারের মে, ২০১৪ এর এটি একটি জরিপের ফলাফল। বিভিন্ন আর্টিকেল ও জরিপে জানা গিয়েছে, অনলাইনে অতিরিক্ত সময় দিলে বিষণ্নতা, আত্মহত্যা, একাকীত্ব, স্বল্প আত্মবিশ্বাস দেখা দেয়।
কিন্তু আপনি অফলাইনে কীভাবে সময় দিবেন যখন আমাদের জীবনই ‘অনলাইনভিত্তিক’ হয়ে গিয়েছে? প্রতি মাসেই নতুন নতুন সাইট এবং অনলাইন সেবা সৃষ্টি হচ্ছে। যদি আপনার কোনো কিছু চেক করার প্রয়োজন হয় যেমন; সন্তানের জন্য নতুন স্কুল, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ঘোরাফেরার জায়গা কিংবা রন্ধন প্রণালী, আপনি অনলাইনের সাহায্য নিয়ে থাকেন।
আপনি কি একটি সপ্তাহ কিংবা একটি দিন ইমেইল পড়া ছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা ছাড়া কাটাতে পারবেন? একজন কিছুদিন আগে আমাকে একটি মজার কথা বললেন। তা হলো, তিনি পুরো একটা দিন খাবার কিংবা পানি ছাড়া কাটাতে পারবেন কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া তার বেঁচে থাকা অসম্ভব। ম্যাশেবলের একটি জরিপ অনুযায়ী, শতকরা চব্বিশ ভাগ মানুষ প্রিয়জনের বেশিরভাগ জরুরি মুহূর্ত ছেড়ে গিয়েছেন কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকই সেগুলো শেয়ার করেছেন! আপনার কাছে কি খুব পরিচিত মনে হচ্ছে এসব? আপনি যেকোনো ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে দিচ্ছেন কিন্তু জানতেই পারছেন না যে আপনার চোখের সামনে কী হচ্ছে!
সাম্প্রতিক সময়ে আমি দেখেছি রাস্তায় দুজন মানুষ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলেন। তারা দুজনেই নিজেদের স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। একটা অনুষ্ঠানেও আমি খেয়াল করলাম পাশের ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেয়ে মানুষ ফোন নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তাদের সঙ্গে কথা বলতেও আমি যেন ইতস্তত বোধ করছিলাম। আমি শুধুমাত্র একটি সাধারণ আলাপচারিতাই চাইছিলাম।

অনলাইনে অতিবাহিত সময় কমিয়ে আনুন
ইন্টারনেট একটি দারুণ বিষয় কিন্তু আপনাকে বাস্তব জীবন ও ইন্টারনেটের মধ্যে সমতা আনতে হবে। দিনে কতটুকু সময় আপনি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটস অ্যাপে ব্যয় করেন?
*মোবাইলের ইন্টারনেট বন্ধ করে দিন। শুধুমাত্র বাসা এবং অফিসে ব্যবহার করুন। তাহলে রাস্তায় ব্যয় করা সময়টুকু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে কাটাতে পারবেন, নোটিফিকেশনের আওয়াজ শুনে বার বার ফোন বের করে দেখতে হবে না।
*বন্ধুদের বাসায় দাওয়াত দিন এবং তাদের অনুরোধ করুন ফোনগুলো পকেট এবং হ্যান্ডব্যাগে রেখে দেওয়ার জন্য।
*প্রতিদিন ফেসবুক, মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে কোনো বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলুন। ছোট ছোট শব্দ কিংবা বাক্যে মেসেজ আদান-প্রদান না করে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলুন।
*কাউকে চিঠি কিংবা কার্ডে লিখে মনের ভাব প্রকাশ করুন। আপনার হাতের লেখা যেমনই হোক না কেন সেটি খুব আন্তরিক হয়ে ধরা দিবে অপর পার্শ্বে।
*গুগল থেকে একটু বিরতি নিন। কোনো বইয়ের দোকানে কিংবা পাঠাগারে কিছু সময় অতিবাহিত করুন। বই এবং ম্যাগাজিনের গন্ধ শুঁকে সময়গুলোকে আপন মাত্রায় পার হতে দিন।
*কোনো রকম ইন্টারনেটের স্পর্শ ছাড়া ছুটি কাটিয়ে আসুন মাসে একবার। ছবি তুলুন কিন্তু সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সেদিনই পোস্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।
আমাদের জীবন একটাই এবং এটি খুবই সংক্ষিপ্ত। সেজন্য পুরোদমে সময়গুলো উপভোগ করুন।
প্রিয়




