১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ১৬
‘আপনার সময়কে স্বেচ্ছাসেবী বানিয়ে দিন’
‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের ছোট্ট অনুশীলন’ বইটি হাতে অনুবাদক বুশরা আমিন তুবা। ছবি: নূর, প্রিয়.কম।

আপনার সময়কে মাঝে মাঝে যদি আপনি স্বেচ্ছাসেবী বানিয়ে ফেলতে পারেন, তাহলে আপনার মধ্যকার অহমিকার অন্ধকার ঘুঁচে যাবে। প্রতীকী ছবি।
অনুশীলন: ১৬- আপনার সময়কে স্বেচ্ছাসেবী বানিয়ে দিন
অন্যকে সফল বানানোর মধ্যেই সত্যিকারের সাফল্য নিহিত। যে সমাজ অজ্ঞতায় পরিপূর্ণ, তেমন সমাজে আপনি একা বিদ্বান হয়ে কোনো লাভ আদৌ খুঁজে পাবেন না। এমনকি হাজারো অপুষ্টির শিকার মানুষের ভিড়ে আপনি একা স্বাস্থ্যবান হয়ে কী-ই-বা হাসিল করবেন, বলুন? উইনস্টন চার্চিল একবার বলেছিলেন, ‘আমরা যা পাই তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি কিন্তু আমরা যা প্রদান করি তা দিয়ে একটি জীবন তৈরি করি।’ আপনি কীভাবে জীবন তৈরি করছেন? আপনি আপনার সময়, অর্থ ও মনোযোগ কীভাবে দান করছেন? হয়তো আপনি আপনার সময় এলাকার কোনো বিদ্যালয়ে দিচ্ছেন, কোনো দাতব্য সংস্থায় হয়তো অর্থ দান করছেন, কিংবা তরুণদের স্পোর্টস ক্লাব চালাচ্ছেন। যখনই আপনি নিঃস্বার্থভাবে এবং ফেরত পাবার আশা ছাড়া কিছু দান করেন, আপনার মন অসম্ভব কিছু ভালো লাগায় ভরে যাবে।
দান করার জন্য আপনার বড়লোক হওয়ার কোনো দরকার নেই। বিল গেটস এবং মেলিন্ডা গেটসের হয়তো দান করার মতন অনেক অর্থ আছে কিন্তু আপনার কাছে আছে আপনার মূল্যবান সময়। সপ্তাহে একদিন এক ঘণ্টার জন্য এলাকার কোনো পশু আশ্রয়স্থানে কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে একটু ঘুরে আসতেই পারবেন। হলপ করে বলছি, আপনার অনুভূতিটি অসাধারণ হবে।
আপনার সময়কে মাঝে মাঝে যদি আপনি স্বেচ্ছাসেবী বানিয়ে ফেলতে পারেন, তাহলে আপনার মধ্যকার অহমিকার অন্ধকার ঘুঁচে যাবে। তখন অফিসের পদবী, গাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এসবের কথা আপনার মনেই থাকবে না। আপনি হয়ে উঠবেন অসাধারণ একজন স্বেচ্ছাসেবক। অনেক সময় নিজের অহংবোধ এত বেড়ে যায় আমাদের যে, কোনোভাবেই লাগাম দেওয়া যায় না। সে সময়গুলোতে কিছু স্বেচ্ছাসেবী কাজ করলে আপনি শান্তি পেতে পারবেন।

যদি কিছু দান করার ইচ্ছেই থাকে তবে কোনো সংস্থা কিংবা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে প্রদান করুন। প্রতীকী ছবি।
এখনই শুরু করুন
ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে আজ থেকেই কাজ শুরু করে দিন। কোনো কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখবেন না। অর্থকষ্টে আমরা সবাই কমবেশি ভুগি কিন্তু সময় তো সবারই আছে, তাই না? কেউ কেউ হয়তো বলবেন সময় নেই। এক কাজ করতে পারেন। ছুটির দিনে একটু আগে ঘুম থেকে উঠুন। এটিকে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলুন। এক সময় আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন।
আপনি বিশ্বাস করবেন এমন কারণ খুঁজে বের করুন
আপনি আপনার সময়, শক্তি ও অর্থপ্রদান করতে মোটেও বাধ্য নন। এটি আপনার ইচ্ছার ব্যাপার। যদি কিছু দান করার ইচ্ছেই থাকে তবে কোনো সংস্থা কিংবা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে প্রদান করুন। কিছুদিন ঘোরাফেরা করে দেখুন, খুঁজে বের করুন। যেকোনো দাতব্য সংস্থা কীভাবে কাজ করে খতিয়ে দেখুন। কোনো দোকানে সহকারী হয়ে কাজ করতে চাইলে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিন আগে।
ট্রেন্ড চালু করুন
দান করার ব্যাপারে অগ্রসর হোন। যারা আপনার কাছের মানুষ, তাদের আহ্বান জানান। বন্ধু, আত্মীয় ও সহকর্মীদের সাথে আপনার ধারণা ভাগ করুন। একা কিছু করার চাইতে অনেকে একসাথে করলে আনন্দ পাবেন বেশি। আপনার সন্তানদের এবার সময় হয়েছে বিছানা, ট্যাব ও টিভি পরিত্যাগ করে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করার জন্য মাঠে নেমে পড়ার।
সুত্র: প্রিয় .কম



