জাতীয়শিরোনাম

হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই রাজধানীতে নতুন করে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। গত কয়েক দিনে এর প্রকোপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ঢাকাবাসী। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশব্যাপী ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৮ জন।
যার মধ্যে ৪৭ জনই ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ৪৮ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া ১৫ জনই ঢাকার। এখন পর্যন্ত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারটি মৃত্যুর তথ্য প্রেরিত হয়েছে। আইইডিসিআর দুটি ঘটনার পর্যালোচনা সমাপ্ত করে একটি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করে। সংস্থাটির জরিপ থেকে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ জন। যার মধ্যে ২৬শে অক্টোবর ৩ জন, ২৭শে অক্টোবর ৯ জন, ২৮শে অক্টোবর ১০ জন, ২৯শে অক্টোবর ৭ জন, ৩০শে অক্টোবর ১৪ জন, ৩১শে অক্টোবর ১১ জন এবং ১লা নভেম্বর ১৫ জন। জরিপে দেখা যায় ক্রমান্বয়ে এডিস মশায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাকালীন এই সময়ে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি হতে চাচ্ছে না। বাসায় বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ডেঙ্গু রোগীদের সঠিক তথ্য মিলছে না। তারা বলছেন, সাধারণত বছরের এই সময়ে এডিস মশার বিস্তার কমে যায়। এবার সম্পূর্ণ তার উল্টো। গত এক মাস ধরে রাজধানীতে মশার প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ না হলে এডিসের বিস্তার আরো বাড়তে পারে। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের মশককর্মীদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এমনটি হতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকে ওষুধ ছিটিয়ে সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও, হঠাৎ করেই এর প্রকোপ বাড়তে থাকে। এতে নতুন করে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে ডেঙ্গু ও মশা বাহিত অন্যান্য রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ফের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। এ অভিযানে চতুর্থ প্রজন্মের লার্ভিসাইড নোভালিউরন ব্যবহার করা হবে। যা একবার ব্যবহার করলে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি’র কর্মকর্তারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানায়, সম্প্রতি সময়ে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ফের ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিরুনি অভিযান সম্পর্কে নগরবাসীকে অবহিত করতে সর্বত্র মাইকিং করছে সিটি করপোরেশন। চিরুনি অভিযান সর্বাত্মকভাবে সফল করতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, এ বছর এডিস মশার প্রকোপ অনেক কম। বিগত কয়েক মাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করে মশার লার্ভা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button