
হিমালয় কন্যা নেপালে হয়ে গেল অন্যরকম এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। টানা ১৬তম বছরের মতো গত সোমবার দেশটির রাজধানী কাঠমাণ্ডুর কাছে চিতওয়ান জেলায় বসে সুন্দরী হাতি বাছাইয়ের ওই আসর। এবারের আসরে পাঁচ হাতির মধ্য থেকে একটির মাথায় ‘মুকুট’ পরিয়েছেন বিচারকরা।
দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, অন্যান্য বছর হাতির সংখ্যা অনেক বেশি থাকলেও এবার ছিল মাত্র পাঁচটি। ওর মধ্য থেকে তিন সদস্যের জুরিবোর্ড বেছে নেন সবচেয়ে সুন্দরী হাতিটিতে।
সুন্দরীর খেতাব জেতা হাতিকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় আখ, কলা, পেঁপের মতো বাহারি সব খাবার। আর হাতির মালিক পান নগদ অর্থ। এ জন্য অবশ্য মালিক বা মাহুতদের কয়েক দিন ধরে হাতিকে দিতে হয় প্রশিক্ষণ। নানা রঙে সাজাতে হয় হাতির বিশাল শরীর। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক জিরে চৌধুরী বলেন, উৎসবটির জন্য আমরা বছর জুড়ে অপেক্ষা করি। টানা ছয়-সাত দিন ধরে প্রস্তুত করি হাতিকে। তাদের দেওয়া হয় নানা প্রশিক্ষণ। তারপরই সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাঠে নামানো হয় তাদের।
তিনি জানান, তারা বিশ্বাস করেন এই প্রতিযোগিতা পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্যণীয়। প্রতিবছরই এই প্রতিযোগিতার দিনে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আসেন তাদের জেলায়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে হাতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা জন্মাতে। তাদের আশা, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়েও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে হাতিদের সুন্দরী প্রতিযোগিতার এই আয়োজন।
তবে উৎসব সফল হলেও প্রাণী অধিকার কর্মীরা হাতিদের নিয়ন্ত্রণে মাহুতদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করে। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আয়োজকরা জানিয়েছেন, হাতিদের নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি মোটেই ক্ষতিকর নয়।




