হত্যার মিশনে ইসরাইল : তুরস্কের হস্তক্ষেপে মোসাদের কৌশল ফাঁস

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার ওপর গাড়িবোমা হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তিকে লেবাননের কাছে হস্তান্তর করেছে তুরস্ক সরকার। গত ১৪ জানুয়ারি সংঘটিত ওই হামলায় হামাস নেতা মুহাম্মাদ আবু হামজা হামদান সামান্য আহত হন।
লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তুর্কি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আঙ্কারার কর্মকর্তারা ওই সন্দেহভাজনকে বৈরুতের হাতে তুলে দেন। লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা এ সন্দেহভাজনকে ৩৮ বছর বয়সী আহমাদ বাইতিয়া বলে পরিচয় দিয়েছে।
লেবাননের আল-আখবার পত্রিকার খবর অনুসারে, দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দারা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে হামাস নেতাকে হত্যা-প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত চক্রের প্রধানকে শণাক্ত করতে সমর্থ হন।
হামাস নেতাদের এ ধরনের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয় বরং ইসরাইল সংগঠনটির বহু নেতাকে গোপনে হত্যা করেছে। গত বছরের মার্চ মাসে ইসরাইল হামাস নেতা মাজেন ফুকাহাকে হত্যা করেছিল।
জানা যায় লেবাননে বসবাসরত হামাস নেতা মুহাম্মাদ আবু হামজা হামদানকে হত্যার জন্য গত ১৪ জানুয়ারি গাড়িবোমা হামলা চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন লেবাননে বসবাসকারী হামাসের এ নেতা; ওই হামলায় তিনি সামান্য আহত হন। লেবাননের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দারা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে ওই গুপ্তচরকে ৩৮ বছর বয়সী আহমাদ বাইতিয়া বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন।
লেবাননের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, বাইতিয়াকে নিয়োগ দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের গুপ্তরচর সংস্থা মোসাদ এবং সে লেবানন ও নেদারল্যান্ডে যখন তখন ভ্রমণ করতে পারত। হামাস নেতাকে হত্যার মিশন নিয়ে বাইতিয়া নেদারল্যান্ড থেকে বৈরুতের রফিক হারিরি বিমানবন্দরে পৌঁছায় গত ৯ জানুয়ারি। পরে সে বৈরুতের ওয়াটার ফ্রন্ট সিটিতে এক সপ্তাহের জন্য একটি বাসা ভাড়া নেয় এবং বৈরুতে পৌঁছার দিনই ত্রিপোলি শহরে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আবার রাজধানীতে ফিরে আসে।
হামলাকারী চক্রের প্রধান হিসেবে ছদ্মবেশে বাইতিয়া কয়েকবার সিডন শহরে যায় এবং কঠোরভাবে হামাস নেতা হামদানের বাড়ির ওপর নজর রাখে। ১১ জানুয়ারি এ গ্রুপ হামদানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত করে। লেবাননের তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে- বাইতিয়া ও তার সহযোগীরা ১৪ জানুয়ারি আবার সিডন শহরে যায় এবং তাদের একজন রাত সাড়ে তিনটার দিকে হামদানের গাড়ির ড্রাইভিং সিটের নিচে বিস্ফোরক পাতে।
এরপর সন্ত্রাসী চক্র হামদানের বাড়ি থেকে বের হওয়া ও গাড়িতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরে সকালে হামদান বাড়ি থেকে বের হন এবং গাড়িতে ওঠার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গেই ইসরাইলি এজেন্টরা ওই এলাকা ছেড়ে রাজধানী বৈরুতে চলে যায়।
বিস্ফোরণে হামদান তার পায়ে আাঘাত পান এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণে হামদানের গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্স্ত হয় এবং পাশের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুনে নেভান।




