আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

স্কুল খুলবে কাল, কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীরা থাকবে কোথায়?

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা সোমবার সকাল পর্যন্ত ৮৭ হাজারে পৌঁছেছে, বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সূত্রগুলো।
সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে আসতে থাকা শত শত রোহিঙ্গা পরিবার টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প ছাড়াও আশ্রয় নিয়েছিলো একাধিক স্কুল, মাদ্রাসাতে। কিন্তু ঈদের ছুটির পর আগামীকাল এসব স্কুল খুলে যাচ্ছে।
ফলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের সংকট দেখা দিতে পারে পারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর আশ্রয়ের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা ভিভিয়েন ট্যান বলছিলেন, ক্যাম্পগুলো এখন ধারণ ক্ষমতার বাইরে। আর স্কুল থেকে তাদের সরিয়ে নেয়া হলে নানা ধরণের ঝুঁকি তৈরি হবে।
তিনি বলছিলেন “আমরা খুব উদ্বিগ্ন। শিক্ষা একটা জরুরি বিষয় কিন্তু যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে করে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করলে নানা ধরণের ঝুকি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আমরা এখন কর্তপক্ষ এবং পার্টনার অর্গানাইজেশনের সাথে আলাপ আলোচনা করে যাচ্ছি”।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে প্রতিদিন যে শত শত মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আসছে তারা প্রাথমিক ভাবে আশ্রয় নিয়েছে টেকনাফের দুই নিবন্ধিত ক্যাম্প এবং বিভিন্ন অনিবন্ধিত ক্যাম্পে।
তবে গত ১০ দিনে প্রায় ৮৭ হাজার মানুষ নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় সেসব ক্যাম্পের আশ্রয় দেয়া তাদের ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
ফলে তাদের জন্য টেকনাফের নানা স্থানের স্কুল, মাদ্রাসা এবং কমিউনিটি সেন্টার খুলে দেয়া হয়। হুয়াইকং ইউনিয়নের একজন মেম্বার জালাল আহমেদ বলছিলেন তার ইউনিয়নে অন্তত ২০ টি স্কুল ও মাদ্রাসায় অন্তত ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

ক্যাম্পগুলো ভরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা শরষার্থীদের আশ্রয় দেবার মতো জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে

হুয়াইকং এর মত আরো এলাকায় স্কুল মাদ্রাসায় রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছিল। তবে ঠিক কতগুলো স্কুল,মাদ্রাসা বা কমিউনিটি সেন্টারে তারা রয়েছে তার সঠিক হিসেবে কারো কাছ থেকে পা্ওয়া সম্ভব হয় নি।
বাংলাদেশে গত কয়েক দিন ধরে ইদ উল আযহার ছুটি শেষে আগামী কাল থেকে স্কুল শুরু হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে তাহলে হাজার হাজার এসব মানুষের থাকার কি ব্যবস্থা করা হচ্ছে?
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি টেকনাফ অঞ্চলে কর্মরত লে.কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলছিলেনম সীমান্তবর্তী স্থানে রোহিঙ্গাদের একত্রিত করার কাজ করছেন এখন। স্কুল গুলো ফাঁকা করে ইতিমধ্যে ১২ হাজার মানুষ কে তারা এক স্থানে নিয়েছেন।
তবে তিনি বলছিলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে তাদের আটক করে এই এক স্থানে আপাতত রাখা হচ্ছে। তাদের আশ্রয় দেয়া বা ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা।
কক্সবাজারের দু’টি উপজেলা যেখানে রোহিঙ্গাদের নির্বাহী কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন কাল থেকেই স্কুলের কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ রয়েছে তাদের উপর। আর তাই স্কুলগুলো আজ খালি করে ফেলতে হবে।
বালুখালি ক্যাম্পে একজন আশ্রয় নেয়া মোহাম্দ দিদারুল বলছিলেন আজকে ৫০ টি পরিবার এসেছে সেখানে। যারা পথের পাশে, পান বাজারে এবং জঙ্গলের দিকে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে গতকাল রাতে সেন্টমার্টিন এবং শাহ পরীর দ্বীপ থেকে দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে কোষ্টগার্ড।
স্কুল খুলবে কাল, কিন্তু রোহিঙ্গারা থাকবে কোথায়?
সুত্র: বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button