সোনারগাঁয়ে মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে! গাছে গাছে আগাম আমের মুকুলে

আলআমিনকবির, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : বাতাসে মিশে মৌ মৌ গন্ধ সৃষ্টি করছে,গাছে গাছে আগাম আমের মুকুলে
মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে! গাছে গাছে আগাম আমের মুকুলে। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল। সোনারগাঁও লিচুর পাশা আমের জন্য বিখ্যাত। এজন্য এ জন্যই নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও পর্যটন নগরি হিসেবে খ্যাতির সাথে রয়েছে লিচু ও আমের ব্যাপক চাহিদা ও খ্যাতি, কেন না আদি কাল থেকেই ঈশাখার রাজধানী সোনারগাঁয়ের বিখ্যাত লিচু ও আম অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সোনারগাঁ
২০ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের পানাম ও হামছাদি ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আম বাগানে সারি সারি কিছু কিছু আগাম মুকুল দেখা গিয়েছে।
এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ।
তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা।
এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপা অন্যতম। ইতিমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা।
বাগান মালিক আবদুল লিটন মিয়া,জানান প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে গাছে মুকুল বের হচ্ছে।
তারা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।
বাগান মালিকরা আরও জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি সমপ্রসারনের এক কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করে জানান, গেলো দুই বছরের তুলনাায় এ বছরে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারনে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে এবার ফলন অনেক ভাল হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এ সময় বাগানে বসবাস করা হপার বা ফুদকী পোকা যারা মুকুলের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করতে হবে। তবে যেহেতু দুই একদিন থেকে কুয়াশা বেশি পড়ছে তাই এখন স্প্রে করে খুব ভালো ফল পাবেন না চাষীরা।
কারণ ঠাণ্ডার কারণে এমনিতেই হপার পোকা গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকবে। তবে আরও এক সপ্তাহ পরে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে নিয়ে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাসক স্প্রে করার পরামর্শ দেন ওই কর্মকর্তা।




