সুভাষ দত্তঃ বহুগুণে গুণান্বিত সেলুলয়েডের যাদুকরের ৯০তম জন্মদিন

মেসবা খান :
সুভাষ দত্ত ছিলেন বাংলাদেশি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, সিনেমা চিত্রশিল্পী ও অভিনেতা। ১৯৩০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের মুন্সীপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। আজ তার ৯০তম জন্মদিন ।
তার পৈতৃক বাসস্থান বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চকরতি গ্রামে। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সস্তান ও সুশিক্ষিত সুভাষ দত্ত চলচ্চিত্র নির্মাণের কৌশল শিখতে ভারতের বোম্বেতে গিয়ে পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে একটি ছায়াছবির পাবলিসিটির স্টুডিওতে মাত্র ত্রিশ টাকা মাসিক বেতনে কাজ শুরু করেন।
সুভাষ দত্ত ১৯৫৩ সালে ঢাকায় ফিরে এসে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন চলচ্চিত্রের পোস্টার আঁকার কাজের মাধ্যমে। এরপর তিনি ষাটের দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল সিনেমার পোস্টার এঁকে। এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর পোস্টার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন তিনি। ‘মাটির পাহাড়’ চলচ্চিত্রে আর্ট ডিরেকশনের মধ্য দিয়ে তার পরিচালনা জীবন শুরু হয়। এরপরে তিনি এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘সুতরাং’ ১৯৬৪ সালে এবং সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ও আমার ছেলে’ ২০০৮ সালে মুক্তিলাভ করে।
এ ছাড়া তিনি বেগম রোকেয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করার ইচ্ছে পোষণ করলেও তা পূরণ করে যেতে পারেননি। ষাটের দশকের শুরুর দিকে নির্মিত বহুল আলোচিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। মুস্তাফিজ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তিলাভ করে ৪ আগস্ট, ১৯৬১ সালে এবং এটি বাংলা ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে এক প্রেক্ষাগৃহে পঁচিশ সপ্তাহ প্রদর্শনের রেকর্ড তৈরি করে।
এরপর তিনি আরো অনেক উর্দু ও বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মাণ করেন ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, যাকে তার বানানো অন্যতম সেরা ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি একাধারে চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও শিল্প নির্দেশক ছিলেন। ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।




