আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

সিরিয়ায় ‘বিএসএফ’ নামে যুক্তরাষ্ট্র যে বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে তার সমালোচনা করছে তুরস্ক, রাশিয়া এবং সিরিয়া।

সিরিয়ার পূর্ব উপকূলে মার্কিন-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিয়ে একটি নতুন বাহিনী গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা করছে, তার প্রবল সমালোচনা করেছে সিরিয়ার সরকার, তার মিত্র রাশিয়া, এবং তুরস্ক।
প্রায় ৩০,০০০ সদস্য নিয়ে এই বাহিনীটি গঠিত হবে এবং এতে বিপুল সংখ্যায় থাকবে কুর্দি যোদ্ধা।
সিরিয়া বলছে, এধরনের বাহিনী তৈরি করাটা হবে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন।
রাশিয়া বলছে, এই বাহিনী সিরিয়ার বিভক্তি ডেকে আনতে পারে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, তার ভাষায় ‘সন্ত্রাসী’ এই বাহিনীকে আঁতুড়ঘরেই ধ্বংস করে দেয়া হবে।
আমেরিকানদের নেতৃত্বে যে কোয়ালিশন সিরিয়ায় বিরোধীদের সাহায্য করছে, তারা রোববার ঘোষণা করে যে তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে একটি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী তৈরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে।
এই বাহিনীর নাম দেয়া হয়েছে, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।
এর সদস্য হবে ৩০,০০০ – যাদের অধিকাংশই আসবে কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী ওয়াইপিজি থেকে। তবে আরবরাও থাকবে।
আর এই বাহিনীর কম্যান্ড বা নেতৃত্বে থাকবে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরোধী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস বা এসডিএফ।

গত অক্টোবর মাসে এসডিএফ বাহিনী রাকা শহরটি দখল করে।

আমেরিকার নেতৃত্বে কোয়ালিশনের একজন মুখপাত্র রায়ান ডিলনকে উদ্ধৃত করে তুরস্কের দৈনিক হুরিয়েত জানিয়েছে, এই সীমান্ত রক্ষী বাহিনী শুধু তুরস্কের সীমান্তেই নয়, সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ইরাকের সীমান্তেও মোতায়েন করা হবে।
আর আমেরিকানদের এই পরিকল্পনা জানার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে রাশিয়া, তুরস্ক এবং সিরিয়ায়।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরফ মস্কোতে বলেছেন, এ ধরনের বাহিনী তৈরি হলে সিরিয়া ভেঙে যাবে।
তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সিরিয়াকে ভাগ করার একটি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে – এ ধরনের উদ্বেগের যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।
সবচেয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তুরস্ক, কারণ কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী ওয়াইপিজি তুরস্কের দু’চোখের বিষ।
আঙ্কারা এদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে দেখে, যারা তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, আমেরিকার এই উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোন সন্ত্রাসী সংগঠনকে মোকাবেলার অধিকার তুরস্কের রয়েছে।
আর সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরণের বাহিনী তৈরি করে আমেরিকা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত করেছে। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button