প্রবাসশিরোনাম

সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশি, দেশে ফিরলেন ১৯৬ জন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়দের চেয়ে দেশটিতে আক্রান্ত বিদেশি নাগরিকরাই। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১২১ জন। এদের মধ্যে আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার।
বর্তমানে দেশটিতে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজারের মত বাংলাদেশি অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
এদিকে সিঙ্গাপুরে আটকে পড়া বাংলাদেশের ১৯৬ জন নাগরিক বুধবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে ফেরা বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে চিকিৎসা এবং বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়া লোকজনের পাশাপাশি কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এমন লোকজনও ছিলেন। ফিরতি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে গেছেন দেশটির ৯৮ জন নাগরিক। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নিজেদের নাগরিকদের ফেরানোর জন্য ওই ফ্লাইটের আয়োজন করে।
করোনায় আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানতে চাইলে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুুর রহমান বলেন, গত তিন দিন ধরে সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটা জানতে পারিনি। তবে তারা ধারণা দিয়েছে আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে চার হাজার। তবে আশার খবর হচ্ছে, বাংলাদেশের আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে কারও অবস্থাই গুরুতর নয়। এমনকি দুই মাসের বেশি সময় পর আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া বাংলাদেশের কর্মীর শারীরিক অবস্থাও বেশ ভাল।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল মাত্র ২০০ জন। কিন্তু এরপরই হু হু করে বাড়তে থাকে করোনা শনাক্ত রোগী। ২০ এপ্রিল থেকে টানা তিন দিন এক হাজারের বেশি মানুষের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে স্থানীয় লোকের সংখ্যা খুবই কম। যেমন ২০ এপ্রিল শনাক্ত এক হাজার ৪২৬ জনের মধ্যে স্থানীয় নাগরিক মাত্র ১৬ জন। ২১ এপ্রিল শনাক্ত এক হাজার ১১১ জনের মধ্যে ২৮ জন স্থানীয় নাগরিক। আর ২২ এপ্রিল আক্রান্ত এক হাজার ১৬ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক। অর্থাৎ গত তিন দিনে আক্রান্ত তিন হাজার ৫৫৩ জনের মধ্যে মাত্র ৫৯ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক। বাকীরা বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীনের নাগরিক।
সিঙ্গাপুরের ষ্ট্রেট টাইমসসহ কয়েকটি গণমাধ্যম এবং বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষণ না থাকা সত্বেও বিপুল সংখ্যক লোকজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণে দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত লোকজন চিহ্নিত হচ্ছেন বেশি সংখ্যায়। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ১৪১ জন আক্রান্ত হলেও মারা গেছেন মাত্র ১১ জন। আক্রান্ত বিদেশিদের মধ্যে প্রায় সবাই ডরমিটরিতে থাকেন। সাধারণত এরা কাজে আর ডরমিটরিতে অবস্থানের পাশাপাশি মোস্তফা মার্টের মত বিপনী কেন্দ্র এবং নিজেদের দেশের লোকজন আছেন এমন জায়গায় চলাফেরা করেন। এসব জায়গা থেকে এদের সংক্রমণ হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button