সিংগাইরে প্রথম স্ত্রীকে রেখে বাল্য বিয়ে
স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা
নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত মোক্তার হোসেনের (৩৮) বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীকে রেখে নাবালিকা মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ ওঠেছে। প্রথম স্ত্রী কাঞ্চনমালা বাদী হয়ে স্বামীসহ ৬জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, শ্রীপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র মোক্তার হোসেন (৩৮) ও পার্শ¦বর্তী চারিগ্রামের মৃত রহমত আলীর কন্যা কাঞ্চনমালা (৩৩) দুবাইয়ের শারজায় পাশাপাশি এলাকায় চাকুরি করত। প্রথমে পরিচয় পরে মন দেয়া-নেয়ার এক পর্যায়ে ৫ বছর পূর্বে শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যথারীতি ঘর সংসার করতে থাকে। এরই মধ্যে কাঞ্চনমালার উপার্জিত সমূদ্বয় অর্থ মোক্তার হোসেন হাতিয়ে নেয়। সূত্রমতে, সম্প্রতি বাড়িতে ঘর দেয়ার কথা বলে স্ত্রীকে দুবাই রেখে সে ছুটিতে দেশে ফেরে। ঘর নির্মানের পাশাপাশি মোক্তার হোসেন বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা শুরু করে। এ খবর পেয়ে কাঞ্চনমালা সূদুর দুবাই থেকে গত ৪ অক্টোবর দেশে ফেরে সোজা স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠে। স্বামী ও তার বাড়ির লোকজন কাঞ্চমালাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় কাঞ্চনমালা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ওই রাতেই তাকে উদ্ধার করেন। মিসাংসার কথা বলে কালক্ষেপন করে সিংগাইর পৌর সদরের আজিমপুর মহল্লার শাহাদৎ ড্রাইভারের কন্যা জ্যোতিকে(১৪) নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেফিটের মাধ্যমে বিয়ে করে। এ খবর পেয়ে কাঞ্চনমালা বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ৭ অক্টোবর মামলা দায়ের করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতারক স্বামী মোক্তার হোসেন নাবালিয়া বধু নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। মামলার বাদী কাঞ্চনমালা জানান, আসামীরা মামলা তুলে নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। সিংগাইর থানার ওসি মোঃ সৈয়দুজ্জামান বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন গ্রামে বাল্য বিয়ে রোধে অভিযান চালিয়ে জেল জরিমানা করা হলেও মোক্তার হোসেনের বেলায় বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। মোক্তার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন আইনগত ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে গত সোমবার মোক্তার হোসেনের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কাউকে পাওয়া যায়নি।




