slider

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ফজলুর রহমানের চ্যালেঞ্জ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : সাবেক রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদকে রাজনীতিতে আসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, আবদুল হামিদ যদি রাজনীতি করতে চান চ্যালেঞ্জ করছি উনাকে পুলিশ ছাড়া রাজনীতিতে নামেন। বি চৌধুরীর মতো। বি চৌধুরীও রাষ্ট্রপতির পর রাজনীতি করছেন। আজকে যদি সংবিধান অ্যালাউ করে হামিদ সাব রাজনীতি করুন, তাকে অভিনন্দন জানাবো। কিন্তু আপনি পুলিশ ছাড়া আসেন। আপনাকে আমি চ্যালেঞ্জ করে গেলাম। কত ধানে কত চাল হয় দেখবো।

সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে গত ১ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বর্বরোচিত হামলায় অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হওয়া ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন।

জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান আরো বলেন, অচিরেই শেখ হাসিনার সরকার চলে যাবে। শেখ হাসিনা কোনোদিনই ২০২৩-এর নির্বাচন করতে পারবে না। ২০২৩ সনের শেষ অথবা ২০২৪ সালের প্রথমে নির্বাচনটা শেখ হাসিনার অধীনে হবে না। এদেশে জনগণের সরকার হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। সেই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং তার নেতৃত্বে আমরা নির্বাচনে অংশ নিবো, জাতীয়তাবাদী শক্তি জয়ী হবে।

ফজলুর রহমান বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের জনসাধারণ বিগত ১০ বছর ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারের কাছে এক প্রকার জিম্মি অবস্থায় নিজ বাসভূমে পরাধীন জীবন যাপন করছেন। আমার তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার দূরে থাক, তাদের কথা বলার স্বাধীনতা পর্যন্ত নেই। মুখ খুললেই তাদের ১৩ শিকের বাসিন্দা হতে হয়। এখনো একই অবস্থা। সেখানে গায়েবি মামলা, অত্যাচার আর নির্যাতনে জর্জরিত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত। এ রকম অবস্থা যেন এই এলাকা রাষ্ট্রের মধ্যেই আরেকটি রাষ্ট্র। আর সেই রাষ্ট্রের একচ্ছত্র অধিপতি একটি পরিবার। প্রশাসনযন্ত্র থেকে শুরু করে সবকিছুই পরিবারটির নিয়ন্ত্রণে। জেল-জুলুম আর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে ভাটি এলাকাকে এখন এক আতঙ্কের জনপদে পরিণত করা হয়েছে।

ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, যে দেশের জন্য পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, এই মুক্ত স্বদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছি না। বিগত ১০ বছর আমি আমার এলাকায় অবাধে যেতে পারিনি। নানা অজুহাতে পদে পদে আমাকে বাধা দেয়া হয়েছে।

ফজলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের বিধিনিষেধের কারণে গত ১০ বছর আমি আমার নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেনি। এবার কর্মসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর তিন উপজেলার নেতাকর্মী ও জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেন। ভাটি এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে যায়। কিন্তু আবারো শুরু হয় দমন-পীড়নের পুরনো খেলা। গত পহেলা জুলাইয়ে আমার অষ্টগ্রামের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত ২৭ জুন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সভা করেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রস্তুতি সভা থেকে বের হওয়া মাত্রই অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলকে পুলিশ আটক করে। পরে তাকে একটি গায়েবি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়। মূলত ভয়ের পরিবেশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরও আমাদের নেতাকর্মীরা দমে যায়নি। গত ১ জুলাই সকাল থেকে নেতাকর্মীরা বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস নিয়ে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্টে সমবেত হতে থাকেন। বেলা ১২টা বাজার আগেই সেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও জনতা জড়ো হন, যা অষ্টগ্রামের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি না দেখলে কল্পনাও করা যাবে না। হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিলটি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। তারা রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ উপস্থিত থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের পেটানোর নির্দেশ দেয়। বর্বরোচিত ও ঘৃণ্য এ হামলায় আমাদের ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রত্যক্ষ মদদে হামলার পর পুলিশ আমাদের ছয়জন নেতাকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর রাতের আঁধারে তাদের ছাড়াও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুলসহ ৭১ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৩০০ থেকে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে দেয়া হয় গায়েবি মামলা। মিথ্যা ও গায়েবি মামলা এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর পুলিশ প্রতিরাতে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ইটনা ও মিঠামইন উপজেলাতেও পুলিশ নেতাকর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। আমার তিন থানার মানুষ পুলিশের ভয়ে এখন হাওরে হাওরে রাত কাটায়। গণসংযোগ-পথসভায় বাধা, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, গায়েবি মামলা, পুলিশের হয়রানি, হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় আমার কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ফজলুর রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সর্বশক্তি নিয়ে এখন মিঠামইনে অবস্থান করছেন। তার নির্দেশে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমি নেতাকর্মীদের সুরক্ষার জন্য আমার পরবর্তী কর্মসূচি স্থগিত করে সংবাদ সম্মেলন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, নাজমুল আলম ও আমিনুল ইসলাম আশফাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ভিপি বাহার মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি জি এস খসরুজ্জামান শরীফ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ মিয়া প্রমুখসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button