খেলা

সাকিবের অনুশীলনে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তারই অংশ হিসেবে বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সময় সাকিবের পাশে সার্বক্ষণিক একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীকে দেখা গেছে।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বললেন, ‘বিষয়টি (সাকিবকে হত্যার হুমকি) উদ্বেগজনক। এমন কোনো ধরনের বিষয় কখনো কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। আমরা জানার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট যারা তাদেরকে বলেছি। তারাও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
এদিন সাকিবের মাঠে আসা, মূল মাঠ থেকে ইনডোরে যাওয়া, সব সময়ই একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তবে বিভিন্ন সময় বিসিবির বিদেশি কোচ ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তায় আগেও ওই নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন এই দায়িত্বে।
আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ২৯ অক্টোবর থেকেই মুক্ত সাকিব। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার এখন মাঠের ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে খেলতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন তিনি।
কিন্তু সাকিব ফেরার পর থেকেই বিতর্ক তার পিছু নিয়েছে। ৫ নভেম্বর রাতে ঢাকায় পা রেখেই যেমন পরদিন সকালে গুলশানের একটি সুপারশপ উদ্বোধন করেন। তাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মাঝে।
এরপর সাকিব কলকাতায় যাওয়া পথে বেনাপোল চেকপোস্টে সেলফি তুলতে চাওয়ায় এক ভক্তের ফোন ভেঙেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। কলকাতায় গিয়ে তার কালী পূজার উদ্বোধন করার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এক শ্রেণির মানুষের প্রবল সমালোচনার শিকার হন সাকিব।
এমনকি ফেইসবুক লাইভে এসে একজন সাকিবকে হত্যার হুমকিও দেন। যাকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
এদিকে সাকিব দুদিন আগে ইউটিউবে ভিডিও বার্তায় এসব বিতর্কের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি কালী পূজা উদ্বোধন করেননি বলেও জানান। তারপরও যেসব বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এর জন্য ক্ষমাও চান বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
দেশে ফিরে বারবার অক্রিকেটীয় বিষয়ে সাকিবের শিরোনামে আসাটা কীভাবে দেখবে বিসিবি? এমন এক প্রশ্নের উত্তর প্রধান নির্বাহী এভাবে বললেন, ‘আসলে আপনারা জানেন যে আমাদের টুর্নামেন্টের সময় সার্টেন রেস্ট্রিকশন থাকে। এখন একটা নতুন বিষয় ইনক্লুশন হয়েছে, বায়ো বাবলের মধ্যে প্লেয়ার এবং সাপোর্ট স্টাফদের থাকতে হয়।’
‘এই বিষয়টা রিসেন্টলি আমাদের যে টুর্নামেন্ট হলো সেখানে আপনারা দেখেছেন, আমরা অ্যাড্রেস করেছি। যেহেতু প্লেয়াররা এখন রিল্যাক্সে আছে। এরপর আবার যখন টুর্নামেন্টটা শুরু হবে। তখন আমরা আবার বায়ো বাবল এনভায়রনমেন্ট রাখা যায়, সেটাই রাখব।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button