সাকিবদের প্রতি বল থেকে ভারতীয় বোর্ডের আয় ২৩ লাখ রুপি!
আইপিএলের টিভি ও ডিজিটাল স্বত্ত্ব কেনার দৌড়ে সোনিকে হারাল স্টার ইন্ডিয়া। সোমবার ১৬,৩৪৭ কোটি রুপির চুক্তিতে এই স্বত্ত্ব কিনে নেয় স্টার। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইপিএল-এর টিভি ও ডিজিটাল সম্প্রচারের একমাত্র অধিকার থাকল স্টার ইন্ডিয়ার হাতে।
আইপিএলের স্বত্ত্ব কেনার দৌড়ে অংশগ্রহণ করেছিল প্রায় ২৪টি সংস্থা। তবে ১০টি সংস্থা উপস্থিত না থাকার জন্য, বাকি ১৪টি সংস্থাকে নিয়েই শুরু হয় নিলাম। তাদের মধ্যে থেকেই স্বত্ত্ব বাগিয়ে নিয়েছে স্টার।
২০০৮ সালে ১০ বছরের জন্য আইপিএল-এর সম্প্রচার স্বত্ত্ব কিনেছিল সোনি। চুক্তির মূল্য ছিল ৮২০০ কোটি রুপি। সেই তুলনায় অর্ধেক সময়ের জন্য প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করছে স্টার ইন্ডিয়া।
বর্তমানে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে, আর্থিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই। এই চুক্তির ফলে, সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্টারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর বোর্ডের আয় হবে প্রায় ৩২৭০ কোটি টাকা। ম্যাচ প্রতি আয় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। সেই জায়গায় ভারতের যে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই পরিমাণ ৪৩ কোটি টাকা।
স্টার ইন্ডিয়া একাধিপত্য
ভারতীয় ক্রিকেট সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কার্যত একাধিপত্য কায়েম করল স্টার ইন্ডিয়া। সোমবার ইন্ডিয়া প্রিমিয়ার লিগের সম্প্রচার স্বত্বের নিলামে স্টার ইন্ডিয়া আগামী পাঁচ বছরের জন্য (২০১৮-২০২২) সম্প্রচার স্বত্ব জিতল। রেকর্ড পরিমাণ ১৬, ৩৪৭.৫০ কোটি টাকা (২৫৫ কোটি ডলার) বিড করে স্টার ইন্ডিয়া আইপিএলের ব্রডকাস্টিং রাইটস কিনে নিল।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সোনি ইন্ডিয়া দশ বছরের জন্য (২০০৮-২০১৭) আইপিএল ব্রডকাস্টিং রাইটস কিনেছিল ৮ হাজার ২০০ কোটি ভারতীয় টাকায়। তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ দিয়ে স্টার ইন্ডিয়া এই স্বত্ব কিনল পাঁচ বছরের জন্য।
আইপিএল নিয়ে গত কয়েক বছরে এত কেচ্ছা কেলেঙ্কারির ঘটনা সত্ত্বেও এই টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ডভ্যালু ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি বছর ব্রডকাস্টিং স্বত্ব বাবদ বিসিসিআই’এর আয় হবে ৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। ঘরের মাঠে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রতি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পিছু ক্রিকেট বোর্ডের আয় হয় ৪৩ কোটি টাকা। সেখানে আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচ থেকে বোর্ড পাবে ৫৫ কোটি টাকা।
ভারত সহ বহির্বিশ্বের সব মহাদেশেই আইপিএলের খেলা সম্প্রচার করার অধিকার পেয়েছে স্টার ইন্ডিয়া। সেই সঙ্গে স্টার কিনে নিয়েছে ডিজিটাল রাইটসও। হটস্টারে দেখা যাবে ডিজিটাল সম্প্রচার ও ম্যাচের আপডেট। ডিজিটাল রাইটসের অন্তগর্ত মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। কেবলমাত্র ভারতে সম্প্রচার স্বত্ব কেনার জন্য সোনি ১১ হাজার ৫০ কোটি টাকার বিড করে। স্টার ইন্ডিয়া প্রতিটি বিড আলাদাভাবে করেছিল। ভারতে আইপিএল ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার জন্য সোনির তুলনায় অনেক কম ৬ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার দরপত্র নিলামে পেশ করেছিল স্টার ইন্ডিয়া। সনি গ্লোবাল বিডে অংশ নেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী সার্বিক দরপত্রে মোট অর্থের পরিমাণ যে সংস্থার বেশি হবে, তারাই জিতবে ব্রডকাস্টিং রাইটস। এখানেই বাজিমাত করেছে স্টার ইন্ডিয়া। তবে স্টার ইন্ডিয়ার চিফ এগ্জিকিউটিভ অফিসার উদয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ‘অন্য সব কটি বিডের মোট পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৮১৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা। আমাদের সার্বিক বিড ৫০০ কোটি টাকা কম হলেই নিলামে হেরে যেতাম।’
বিসিসিআই’এর পক্ষে সিইও রাহুল জহুরী জানান, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল, নিলামে স্বচ্ছ্বতা বজায় রাখা। দুই অ্যাকাউন্টিং ফার্ম ডেলয়েট এবং সিরিল অমরচাঁদ মঙ্গলদাস প্রতিটি দরপত্রের যোগ্যতামান টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করেছে।’
বিভিন্ন ধরনের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার জন্য ২৪টি কোম্পানি টেন্ডার জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৪টি কোম্পানি সোমবার নিলামে অংশ নেয়। ই-অকশন হয়নি। বামটেকের দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। ভারতের ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য দুই প্রধান দাবিদার ছিল স্টার ইন্ডিয়া ও সোনি। ডিজিটাল রাইটস কেনার জন্য আগ্রহ দেখায় ফেসবুক, জিও, এয়ারটেল, টাইম ইন্টারনেট। টেন্ডারপত্র তুলেও সোমবার নিলামে অংশ নেয়নি দশটি সংস্থা। এই কোম্পানিগুলি হল, অ্যামাজন, তাজ টিভি, গাল্ফ ডিটিএইচ, গ্রুপ এম, মিডিয়া ইন্ডিয়া, স্কাই ইউকে, ইএসপিএন ডিজিটাল মিডিয়া, ট্যুইটার, ডিসকভারি, বিটিজি এবং বিটিপিএলসি।
ক্রিকেট প্রশাসক কমিটির পক্ষে নিলামে তদারকির জন্য হাজির ছিলেন ডায়না এডুলজি। লোধা প্যানেলের শুদ্ধিকরণের প্রস্তাবগুলি বিসিসিআই’এর শীর্ষকর্তারা এখনও কার্যকর করার জন্য সামান্যতম সদিচ্ছা দেখাননি। এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে কড়া স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছেন সিওএ প্রধান বিনোদ রাই। আগামী দিনে বিসিসিআই’-এর সব কর্মকর্তাই মহামান্য আদালতের নির্দেশে বরখাস্ত ও নির্বাতি হতে পারেন। তবু এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্টার ইন্ডিয়া ১৬, ৩৪৭.৫০ কোটি টাকা বিড করে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব জিতে নিল। দু’বছর সাসপেন্ড থাকার পর আগামী আইপিএলে ফিরছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালস।



