আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

‘সরাসরি যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ল তুরস্ক-সিরিয়া

প্রতিবেশী তুরস্ক ও সিরিয়া দৃশ্যত সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এতদিন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিরোধীদের অস্ত্র ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে আসছিল তুরস্ক। কিন্তু আসাদ বাহিনীর হামলায় তুর্কি সেনা নিহত হওয়ার পর সরাসরি পাল্টা হামলা চালায় তুর্কি সেনাবাহিনী।
সোমবার আসাদ বাহিনীর দ্বিতীয় দফা হামলায় ইদলিবে পাঁচ সেনা নিহত ও পাঁচ সেনা আহত হলে তুর্কি সেনাবাহিনী ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়।
এক টুইট বার্তায় তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সিরীয় সরকারি বাহিনীর ১১৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ১০১ জন সিরীয় সেনা নিহত হয়েছে। হামলায় তিনটি ট্যাংক, দুটি হাউইৎজার পজিশন এবং একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইদলিবের সারাকেব শহরে একই ধরনের হামলায় আট তুর্কি সেনা নিহত হয়। তখন তুরস্কের পাল্টা হামলায় ১৩ সিরীয় সরকারি সেনা নিহত হয়, যদিও নিহতের সংখ্যা ৩০-৩৫ বলে দাবি করেছিল তুরস্ক।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ইদলিবকে ‘ডি-এস্কেলেশন জোন’ ঘোষণা করে গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে চুক্তি সই করে রাশিয়া ও তুরস্ক। এই চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া নিষিদ্ধ। চুক্তি কার্যকরের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে সেখানে বেশকিছু পোস্ট বসায় তুরস্ক।
কিন্তু সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১২ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক হামলায় চালিয়ে ইদলিবের প্রায় অর্ধেক দখল করে নেয় রাশিয়া ও সিরীয় সরকারি বাহিনী। এতে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। বাস্তুচ্যুত হয় কয়েক লাখ সিরীয়।
এমনিতে লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থীর ভারে ন্যুব্জ তুরস্ক। দেশটির জনগণের মাঝে তাদের নিয়ে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে এরদোয়ানের একে পার্টির। ফলে নতুন করে কয়েক লাখ সিরীয় শরণার্থী ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যায় তুরস্ক।
আলজাজিরা জানায়, তুরস্ক চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবের নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম না করতে রুশ ও সিরীয় সরকারি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এই আহ্বান উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে রুশ ও সিরীয় বাহিনী। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়া’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button