
নারী সংহতি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা মুমূর্ষু খাদিজার পাশে সেলফি তোলার মধ্য দিয়ে নিজেদের অমানবিক চরিত্রকে আরো প্রকট করে তুলছে।
তারা বলেন, ছাত্রলীগ পরিচয় আড়াল করে সরকার খাদিজাকে হত্যাচেষ্টার দায় এড়াতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিচার না করে রাষ্ট্র-সরকার ধর্ষক-খুনিদের রক্ষা করছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে নারী সংহতির বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অব্যাহত বিচারহীনতার সুযোগে সমাজে নারী নির্যাতন-খুন-ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নে রাষ্ট্র-সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। গড়ে প্রতিবছর হাজারের বেশি নারীর ধর্ষণ ও খুনের শিকার হওয়াই এর প্রমাণ। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আফসানা হত্যায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতা রবীনকে পুলিশ আজও গ্রেফতার করতে পারেনি। আর সেনানিবাসে তনু ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের ধরা ও বিচারের ক্ষেত্রে সরকার চরম তামাশা করছে। দিনে-দুপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে রিশাকে হামলা করে খুন করার মতো স্পর্ধা দেখাতে পেরেছে যৌন নিপীড়ক ওবায়দুল। এর পরপরই ঘটলো খাদিজার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা। অবিলম্বে এ যৌন নিপীড়ন ও হামলার দ্রুত বিচার আইনে বিচার ও শাস্তি দাবি করেন তারা। পাশাপাশি নারী নির্যাতন রুখে দাঁড়াতে দেশের সচেতন মহলকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে-পাড়ায়-মহল্লায়-কর্মস্থলে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি তাসলিমা আখ্তার, সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব ও সহসাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক উৎসব মোসাদ্দেক ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া।
সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মরিয়ম।




