পতাকা ক্যারিয়ার

সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ৪২- ‘সেরাদের অনুকরণ করুন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এ নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৪২ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে।
অনুশীলন ৪২- ‘সর্বোত্তমটিই প্রদর্শন করুন’
আপনার যদি কাউকে অনুসরণ করার কিংবা নকল করার প্রতিভা থেকে থাকে তবে সেটি কাজে লাগান। সফল ব্যক্তিদের সাহায্য নিয়ে কিংবা তাদের কাছ থেকে শিখে আপনি আপনার ক্যারিয়ারের গ্রাফ দিনের পর দিন উঁচু করে ফেলতে পারেন।
নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং এমন ধারণা নিয়ে কাজ করে যেখানে আপনি যেকোন কাজ খুব সফলভাবে সম্পাদন করতে পারবেন শুধুমাত্র আপন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিদের অনুসরণ করেই! এ টার্মকে বলা হয় ‘মডেলিং’ যার অর্থ হচ্ছে অনুসরণ কিংবা পুনরায় সম্পাদন করে কোন কাজকে তুলে ধরা। সেটা চাইলে কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে কিংবা খেলার মাঠেও হতে পারে।
আপনার লক্ষ্য যা-ই হোক না কেন, আপনি কাউকে না কাউকে অবশ্যই কপি করতে পারেন। এ পদ্ধতির সৌন্দর্য এটাই যে এ কাজের জন্য আপনাকে কেউ জবাবদিহি করবেনা। আপনি ওজন কমানোর জন্য, কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি লাভ করার জন্য, ভালো একজন বক্তা হওয়ার জন্য, পরীক্ষায় পাশ করার জন্য এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক উন্নত করার জন্যও এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
এটি দেখে, বুঝে ও অন্য মানুষের ব্যবহার, কাজ, চিন্তাভাবনা এবং যোগাযোগের পদ্ধতি খেয়াল করে করা হয়ে থাকে।
আমাদের চিন্তাভাবনা কোনটা সচেতন আবার কোনটা অবচেতন। সফলতার গোপন মন্ত্র হলো সচেতন এবং অবচেতন উভয়ভাবেই নিজের চিন্তাচেতনাকে ব্যবহার করা এবং উদবুদ্ধ করা। আপনাকে মন থেকে প্রথমে চাইতে হবে যে আপনি এটা করতে পারবেন। নিজের ভেতর থেকে কোন ধরনের ইঙ্গিত না পেলে এ কাজ করা একেবারে মুশকিল।
অন্য কাউকে অনুসরণ করাই কিন্তু সাফল্যের চাবিকাঠি নয়। আপনি এটিকে শুধুমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এ মাধ্যম কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী।
যেকোন কাজে আপনাকে নিজস্বতা, অভিজ্ঞতা এবং স্বপ্নকে পুঁজি করে লড়ে যেতে হবে। তবেই আপনি ধীরে ধীরে সাফল্যের মুকুট মাথায় পরতে পারবেন।
সফলতা পর্যবেক্ষণ করে দেখুন
আপনি কার মতন হতে চান এবং কোন জায়গায় নিজেকে নিরীক্ষা করতে চান, খুঁজে বের করুন।
তাদের অবস্থানে নিজেকে ভাবুন, তারা কী করছেন এবং কিভাবে চলছেন খেয়াল করে দেখুন। তারা আদতেই আপনাকে প্রেরণা দান করতে পারছেন কী না সেদিকে নজর দিন।
সফলতা বলতে আপনি কী বোঝেন এবং সেটি সাধারণ কোন ব্যাপার থেকে আলাদা, সে ব্যাপারে স্পষ্ট হোন।
কী এবং কীভাবে – এর উত্তর আপনি সহজেই আপনার আদর্শনীয় মানুষকে খেয়াল করলেই পেয়ে যাবেন। ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে একটু মিলিয়ে দেখুন সবকিছু মেলে কী না। আপনার যদি সুযোগ থাকে, তবে নীচের প্রশ্নগুলো করতে পারেন আপনার পছন্দনীয় ব্যক্তিত্বকে-
*একদম শুরুর দিকে আপনি কিভাবে পরিকল্পনা করে নিয়েছিলেন যে কী কী করবেন?
*প্রতিবার পারফর্ম্যান্সের আগে আপনার মনে কোন কোন ধারণা কাজ করেছিলো?
*আরো বেশি সফল হওয়ার জন্য আপনার কী কী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো?
*আপনার মতন হতে চাইলে আমার অবশ্যই কী কী করা উচিৎ?
*আপনি অন্যদের ক্ষেত্রে কোনদিক থেকে আলাদা?
অন্য আরেকজন মানুষের মানসিকতা, আচরণ এবং আভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানলে আপনাকে বেশ বেগ পেতে হবে, সত্য কথা। কিন্তু এতে করে আপনি অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন যে আপনার আদর্শের ব্যক্তি বেশ মোটা চামড়ার অধিকারী এবং অধ্যবসায়ী, কোন কাজ শুরু করার আগে তিনি বেশ চিন্তা করে নেন এবং অন্যদের সাহায্য নেন। এমন অবস্থা আপনাকে বেশ সাহায্য করতে পারে। ওমন মানসিকতা আপনি বেশ সহজেই ধারণ করতে পারেন এবং তাতে আপনিই লাভবান হবেন।
যা পর্যবেক্ষণ করলেন তারই পুনরাবৃত্তি করুন
আপনি যখন একবার জেনে যাবেন যে ওই মানুষটি কিভাবে সফলতা লাভ করছে, আপনার কাজ হবে সে পদ্ধতিটি অনুসরণ করা। আপনার অনুসরণের ক্ষমতাই ঠিক করবে আপনার সফলতা ও ব্যর্থতা। এক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার মানসিকতা এবং আভ্যন্তরীণ চিন্তাকে পুরোপুরি গ্রহণ করা। সকল ধরণের নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন। তাতেই আপনার মঙ্গল হবে।
সুত্র: প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button