পতাকা ক্যারিয়ার

সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ৩৫- ‘অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী দুই-ই হোন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৩৪ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।
অনুশীলন ৩৫- ‘অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী দুই-ই হোন’
আপনি কি একজন অন্তর্মুখী নাকি বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব? সকলেরই একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে বহির্মুখী মানুষেরা অধিক আত্মবিশ্বাসী এবং মুখরা। অপরদিকে, অন্তর্মুখী ব্যক্তিরা লাজুক ও শান্ত। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। একজন সত্যিকারের বহির্মুখী ব্যক্তি তিনিই যিনি মনের ভাব পুরোপুরিভাবে প্রকাশ করতে পারেন, অন্যের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন এবং কাজের মাধ্যমেই সর্বদা শিক্ষা নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, যিনি একজন সত্যিকারের অন্তর্মুখী ব্যক্তি, তিনি কথা বলার আগে অনেকবার চিন্তা করে নেন, মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শোনেন এবং নিজের কোন কাজ করার আগে অনেকবার ভাবেন। একজন বহির্মুখী ব্যক্তিও কিন্তু লাজুক ও আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন অন্তর্মুখী ব্যক্তির মতন।
কার্ল জুং এর একটি প্রসিদ্ধ সাইকোলজি গবেষনা মতে, আমরা সবাইই হয়তো অন্তর্মুখী নয়তো বহির্মুখী। আপনি হয়তো ইতোমধ্যে আপনার নিজ ব্যক্তিত্বের ধরণ বুঝে গিয়েছেন। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে উভয় শৈলীই প্রদর্শন করি কিন্তু আধিপত্য স্থাপনের বেলায় যেকোন এক দিকে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি হলো আপনি যে পথে থাকতে অধিক স্বস্তিবোধ করছেন, সে পথের পথিক হয়ে যাওয়া। নিজের আদর্শ অবস্থান হারানোর কোন দরকার নেই তবে মাঝে মাঝে কমফোর্ট জোন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা, সবচেয়ে নীরব মানুষটির চিৎকারও এক সময় শোনার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। মিটিং এ যিনি সর্বাগ্রে থাকেন, তার ও মাঝে মাঝে পেছনে বসে অন্যদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিৎ।
কীভাবে আরো অন্তর্মুখী হবেন
আপনি যদি বহির্মুখী হয়ে থাকেন, তবে নীচের কৌশলগুলো চর্চা করে অন্তর্মুখীতা চর্চা করতে পারেন।
*নিজের চিন্তাশক্তির আরেকটু বিকাশ ঘটান। একটা ডায়েরি এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। মনের মধ্যে যা-কিছুই অনুভব করেন আপনি সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখুন। এটা অবশ্য কোন বহির্মুখী ব্যক্তির জন্য সহজ কাজ নয়।
*কিছু শখের ক্ষেত্র গড়ে তুলুন। সেগুলো হতে পারে ছবি আঁকা, বই পড়া কিংবা হাঁটা। এতে করে আপনি নিজের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে পারবেন এবং আলাপচারিতা সারতে পারবেন।
*ধৈর্যশীল হতে শিখুন। চটজলদি করে কথা বলা, কোন কাজ করা কিংবা আলাপ করার অভ্যাস রোধ করুন।
*খুব মনোযোগী শ্রোতা হোন। আগে শুনুন, অতঃপর কথা বলুন। যেকোন মিটিং কিংবা গ্রুপ আলোচনায় সর্বপ্রথম বক্তা হওয়ার অভ্যাস কাটিয়ে তুলুন।
কীভাবে একটু বেশি বহির্মুখী হবেন
আপনি যদি অন্তর্মুখী হয়ে থাকেন তবে নীচের কৌশলগুলো অনুসরণ করে বহির্মুখী হয়ে উঠতে পারেন-
*লুকিয়ে থাকার কোন মানে নেই। মানুষের সঙ্গে মিশুন এবং কথা বলুন। অফিসের দরজা কিংবা পড়ার ঘরের দরজা খুলে রাখুন। সহকর্মী কিংবা প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটান।
*যেকোন মিটিং কিংবা গ্রুপ আলোচনায় সর্বাগ্রে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেকোন সৃজনশীল চিন্তা মাথায় আসার পরপর সেটি নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করুন এবং কাজে নেমে যান।
*নিজের বৃত্তের পরিধিটা বড় করুন। এমন কোন সামাজিক কর্মকাণ্ড খুঁজে বের করুন যেখানে আপনি নিজেকে প্রকাশ করতে পারবেন। বিতর্কের ক্লাব আপনাকে এক্ষেত্রে বেশ সাহায্য করতে পারে।
সুত্র: প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button