সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ৩৪
‘বার্ধক্যের যাত্রাটি উপভোগ করুন’
‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের ছোট্ট অনুশীলন’ বইটি হাতে অনুবাদক বুশরা আমিন তুবা। ছবি: নূর, প্রিয়.কম।
প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৩৪ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।
অনুশীলন ৩৪- ‘বার্ধক্যের যাত্রাটি উপভোগ করুন’
আপনি যা হারিয়েছেন সেটি নিয়ে মনঃক্ষুণ্ণ না হয়ে যা পেয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে তরুণদেরকেই শুধুমাত্র অগ্রাধিকার দেওয়া হয় প্রত্যেকটা কাজে। ধারণা করা হয়, সফলতা তাদের দ্বারপ্রান্তে আসে বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মধ্য তিরিশ পর্যন্ত। তারাই যেন যেকোন রেকর্ড ব্রেক করতে ওস্তাদ এবং লক্ষ লক্ষ অর্থ তারা একাই উপার্জন করে। শুধু তাই নয়, অত্যধিক পঠিত বইগুলো তরুণেরাই লেখে এবং বিভিন্ন নতুন নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।
আমরা প্রত্যেকেই অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করতে খুব পছন্দ করি। যেসব মানুষের বয়স বিশের কোঠায় আছে তারা আশা করেন কবে চিন্তাপূর্ণ ছাত্রজীবন কাটাতে পারবেন, যে সকল মানুষ চল্লিশের কোঠায় আছেন তারা কল্পনা করেন তিরিশ বছর বয়সেই তাদের জীবন বড় সুখময় ছিলো। আবার যে ব্যক্তিগণ ষাট বছর পেরোচ্ছেন তারা আরেকটা সুযোগ আশা করেন নিজ জীবন ও ক্যারিয়ারকে ঢেলে সাজানোর।
এখন সময় এসেছে পুরনো সকল সুখময় স্মৃতি রোমন্থন বন্ধ করার। বার্ধক্যে উপনীত হওয়া একটি দারুণ ব্যাপার। এটিকে আপন করে নিন এবং বার্ধক্য আপনাকে যা যা উপহার দিচ্ছে সেগুলোকে হৃষ্ট চিত্তে গ্রহণ করুন। আমার বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি এবং প্রত্যেকটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি যে অভিজ্ঞতাগুলো সঞ্চার করছি সেগুলো নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। আমি কী কী হারিয়েছি সেগুলো আমার কাছে মূখ্য নয় বরং দিনের পর দিন আমি যা যা অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, সুযোগ এবং দুঃসাহসিক অভিযানের দিকে ধাবিত হচ্ছি সেগুলো আমার কাছে পরম আশীর্বাদের মতন।
বয়সের জন্য কখনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না। বরং যে সকল সুযোগ-সুবিধা আপনি পাচ্ছেন সেগুলোকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে শিখুন।
আপনার অতীতকে দূর করে দিন
যত যাই হোক, তারুণ্যদীপ্ত ব্যবহার করুন। অন্তত চেষ্টা করুন। নিজের তারুণ্যের প্রাণচঞ্চলতার কথা মনে করার চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী ব্যবহার করুন। কিন্তু এ কথা মনে রাখবেন, আপনি কিন্তু কখনো আগের সে সময়ে ফেরত যেতে পারবেন না। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত আপনি অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছেন এবং বর্তমানেও সে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নিজের বর্তমান সত্তাকে আপন করে নিন।বর্তমান সত্তাকে আপন করার অন্যতম গোপন মন্ত্র হলো আপনি যা, সেভাবেই নিজেকে গ্রহণ করা। যেকোন বয়সে অবস্থান করতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিন। অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণ করেই নিজের আপন অবস্থানকে বিচার করতে পারবেন আপনি।
কোথাও গিয়ে কিংবা কোন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে আপনার কেমন লেগেছিলো সেই অসাধারণ ব্যাপারগুলো নিয়ে একটু ভাবুন। সকল অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। জীবনের প্রতিটি উত্থান-পতন আপনাকে কেমন শিক্ষা দিয়েছে সেগুলো নিয়ে একবার চিন্তা করুন। একইসঙ্গে আনন্দ ও বিরহের কথাও ভাবুন। জীবনের অসাধারণ বোঝাপড়াগুলোর কথা ভেবে কখনো নিজেকে নিচু ভাববেন না বরং মনে করুন আপনি অসম্ভব ভাগ্যবান।
নিজেকে বদলানোর জন্য দেরি বলতে কিছু নেই
ধরুন, আপনার স্বপ্ন ও লক্ষ্য আছে কিন্তু আপনি নিজেকে খুব বয়স্ক মনে করেন সেগুলো পূরণ করার জন্য। আমি প্রশিক্ষণ দিয়েছি এমন অনেক মানুষকে যারা নিজের বয়সকে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করেন। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার বয়স আপনাকে কখনোই পিছনে ফেলে রাখেনা। আপনার ভয়ভীতি ও ব্যর্থতাই সাফল্য পর্যন্ত পৌছনোর জন্য আপনার অন্যরকম বাঁধা!



