sliderপ্রশাসনশিরোনাম

সচিবালয় এলাকায় কর্মচারী-জুলাই বিপ্লবী ছাত্র-জনতার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা

পতকা ডেস্ক:সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ সংশোধন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির প্রতিবাদে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তৃতীয় দিনের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কর্মচারীরা। এ অধ্যাদেশকে কালো আইন আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন তারা। এ দিকে সংস্কারবিরোধী আমলাদের অপসারণ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে পাল্টাপাল্টি সচিবালয়ের সামনে গণসমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জুলাই বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনে এই কর্মসূচি পালনে ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ের বাদামতলায় জড়ো হয়ে সমাবেশ করে কর্মচারীদের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা স্লোগানে বলতে থাকেন- ‘জনে জনে খবর দে, কালো আইন কবর দে। দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা পুরো সচিবালয়ে পদক্ষিণ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে সচিবালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় তারা। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।

গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি ও কার্যকর করে সরকার।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১৪ কার্য দিবসের মধ্যে কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। তবে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিলের জন্য তারা আরো ৩০ কার্য দিবস সময় পাবেন।

অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস উর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এই অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। গণহারে এই অধ্যাদেশের অধীনে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই, নেয়া হবেও না।

এ দিকে এ অধ্যাদেশ বাতিল ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য সচিবালয়ে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম গঠন করা হয়েছে। এ ফোরামে কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ( নূরুল-মোজাহিদ গ্রুপ) মো: নূরুল ইসলাম এবং বাদীউল-নিজাম গ্রুপের মো: বাদীউল কবিরকে। কো-মহাসচিব হয়েছেন আন্ত:মন্ত্রণালয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের মো: নজরুল ইসলাম, সংযুক্ত পরিষদের মো: মোজাহিদুল ইসলাম এবং নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সচিবালয়ের তিনটি সংগঠনের মধ্য থেকে ১০ জন করে প্রতিনিধি মনোনয়নপূর্বক বাকি পদগুলো খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নবগঠিত সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলাম বলেন, অবিলম্বে এই কালো অধ্যাদেশ বাতিল করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। অন্যথায় সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের লক্ষ্যে সর্বাত্মক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কর্মচারীরা সচিবালয়ে বাদামতলায় ফের সমাবেশ করবেন।

এ দিকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৌলিক ও মানবাধিকারকে স্তব্ধ করার জন্য সম্প্রতি জারিকৃত সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। উত্থাপিত দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।

তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সচিবালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চলমান আন্দোলন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও সচিবদের সাথে আলোচনা করবেন (প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে বেলা ৩টা)। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের অব্যাহতভাবে প্রশ্রয় দেয়া এবং জনপ্রশাসনকে দক্ষতা ও সুচারুভাবে পরিচালিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ ও জনপ্রশাসন সচিব মো: মোখলেস উর রহমানের অপসারণের দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা, সব সংস্থা, অধিদফতর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্মারকলিপি দেয়া হবে। এ দিকে সচিবালয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, জনদুর্ভোগ ও ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত করার ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত সচিবালয়ের ক্যু সম্পর্কে সচেতন থাকুন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে অফিস করা সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ক্যু অব্যাহত রাখলে তাদের পরিণতি পতিত হাসিনার মতো হবে। বাংলাদেশের জনগণ সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে। সুতরাং, সাবধান!

এনসিপি সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, আজ সচিবালয়, এনবিআর কিংবা পোর্টে যারা স্ট্রাইক করছেন, তাদের বলছি, বিপ্লব ওখানেও হবে। আপনারা দুর্নীতি আর লুটপাটের স্বাধীনতা চাচ্ছেন। কিন্তু ২৪ পরবর্তী সময়ে এটা আর পাবেন না। সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, হাসিনার পুরো শাসনামলের প্রতিটি গুম, খুন, দুর্নীতি, অর্থপাচার সব কিছুর সহযোগী আপনারা। ভাববেন না, পার পেয়ে গেছেন। পুনশ্চ বলছি, পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের উচিত অবিলম্বে এসব দুর্নীতিগ্রস্তদের অপসারণ করে, নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button